সিলেটের বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরের প্রবাসী আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্যে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দেশ-বিদেশের নেতাকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সাবেক ছাত্রনেতা ও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী হারুন উর রশীদ বলেন, ১৯৭৫ সালের পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে তাঁর পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তাঁর প্রয়াত বড় ভাই দীর্ঘদিন বৃহত্তর বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করেও দলকে সুসংগঠিত করতে কাজ করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেও বালাগঞ্জ, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং সহযোগিতা করছেন। তিনি বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরের ১৪টি ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, মুজিব আদর্শে বিশ্বাসী নেতাকর্মীদের পাশে তিনি সর্বোচ্চ সামর্থ্য নিয়ে থাকবেন।
যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বালাগঞ্জ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মতিউর রহমান শাহীন বলেন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে দেশের জন্য কাজ করেছেন। তিনি প্রবাসে থাকা মুজিব আদর্শের অনুসারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
সাবেক ছাত্রনেতা সামছুল ইসলাম ছুটু বলেন, আশির দশকে জিয়াউর রহমান ও এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং নব্বইয়ের গণআন্দোলনেও অংশ নেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর তিনি প্রবাসে গেলেও এখনো বালাগঞ্জের মানুষের পাশে এবং মুজিব আদর্শের অনুসারীদের সঙ্গে রয়েছেন।
সাবেক ছাত্রনেতা ও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আব্দুল বাসিত চৌধুরী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক পরিবারের সন্তান হিসেবে বিভিন্ন সংকটময় সময়ে তিনি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, দেশ ও প্রবাসে থাকা মুজিব আদর্শের অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং প্রয়োজনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা নিজামুল হক বলেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে প্রবাসী নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু বলেন, প্রবাসী নেতাদের এ ধরনের উদ্যোগ তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের পর নেতৃত্বের সংকটে প্রবাসী নেতারা যেভাবে ভূমিকা রেখেছিলেন, এবারও তাঁদের একইভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
স্পেন আওয়ামী লীগের নেতা অলিউর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে সামনে রেখে সব ধরনের মতপার্থক্য ভুলে প্রবাসী নেতাকর্মীদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দলীয় ঐক্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।