ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় দেশ স্পেনে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক অভিযোগ করেছেন, দেশটিতে বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মালিকানাধীন কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্পেনের শ্রম আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করছে না। বিশেষ করে গ্রোসারি শপ, রেস্টুরেন্ট ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কাজ নেওয়া হলেও সে অনুযায়ী পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
শ্রমিকদের দাবি, স্পেনের প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ, দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি, বছরে এক মাসের বেতনসহ ছুটি এবং নির্ধারিত অতিরিক্ত সময়ের কাজের জন্য অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দেওয়ার বিধান রয়েছে। এছাড়া বছরে ১৪টি বেতন প্রদানের ব্যবস্থাও রয়েছে। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠান এসব নিয়ম মানছে না বলে অভিযোগ করেছেন প্রবাসী শ্রমিকরা।
তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক কর্মীকে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এর মধ্যে নামমাত্র দুই ঘণ্টা বিরতি দেওয়া হলেও দৈনিক কর্মঘণ্টা স্বাভাবিক সীমার চেয়ে অনেক বেশি। অনেক ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটিও দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা।
আরও অভিযোগ রয়েছে, যারা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বা অনিয়মিত উপায়ে স্পেনে অবস্থান করছেন, তাদের দুর্বল অবস্থার সুযোগ নিয়ে ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো হচ্ছে। অথচ মাসিক বেতন হিসেবে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ ইউরো প্রদান করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন শ্রমিক।
শ্রমিকদের ভাষ্য, অতিরিক্ত কাজের জন্য অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা দেওয়া হয় না। পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সময়মতো বেতন পরিশোধ না করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক জানিয়েছেন যে স্প্যানিশ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত দেশটির শ্রম আইন মেনে চলে এবং বাংলাদেশি কর্মীদের সঙ্গে ভালো আচরণ করে। তারা নিয়মিত বেতন, ছুটি এবং আইন অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে থাকে বলেও দাবি করেছেন শ্রমিকরা।
এ পরিস্থিতিতে স্পেনে অবস্থানরত অনেক শ্রমিক বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। একই সঙ্গে স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।