স্পেনে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, কিছু বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের মালিক দেশটির প্রচলিত শ্রম আইন উপেক্ষা করে শ্রমিকদের অতিরিক্ত সময় কাজ করাচ্ছেন। এতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে, পাশাপাশি কর্মপরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত বিষয় নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
একাধিক শ্রমিকের অভিযোগ, যেখানে দৈনিক নির্ধারিত কর্মঘণ্টা আট ঘণ্টা, সেখানে অনেককে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত সময় কাজ করলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা নিয়ম অনুযায়ী ওভারটাইম সুবিধা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শ্রমিক বলেন, চাকরি হারানোর আশঙ্কায় তারা প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না। তাঁদের ভাষ্য, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই নীরবে পরিস্থিতি মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্পেনে শ্রমিক অধিকার ও কর্মপরিবেশের বিষয়ে কঠোর আইন রয়েছে। দেশটির শ্রম আইনে কর্মঘণ্টা, বিশ্রামের সময় ও অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তবে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের একাংশের দাবি, বাস্তবে কিছু ক্ষেত্রে এসব বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘ সময় কাজের চাপ শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে কর্মদক্ষতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। একই সঙ্গে পরিবার ও সামাজিক জীবনেও এর প্রভাব পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা স্পেনের সংশ্লিষ্ট শ্রম কর্তৃপক্ষ, শ্রম পরিদর্শন সংস্থা এবং স্পেনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকেও প্রবাসী শ্রমিকদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতি স্থানীয় শ্রম আইন মেনে চলার আহ্বানও জানিয়েছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই তাঁদের ন্যায্য অধিকার ও মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট পক্ষের দায়িত্ব।