কারাগারে থাকা এক ছাত্রলীগ কর্মী উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও মুক্তি পেতে প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন।
রবিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর থেকে জামিনপ্রাপ্ত বন্দীদের কারাগার থেকে মুক্ত করতে জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয় বলে শুনেছিলেন। তবে সম্প্রতি তিনি জানতে পেরেছেন, শুধু এসপির ক্লিয়ারেন্স যথেষ্ট নয়; স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) অনুমোদনের পরই এসপি ক্লিয়ারেন্স দিতে পারেন।
জাকির হোসেন লিখেছেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও যদি একজন নাগরিককে মুক্তির জন্য এমপি ও পুলিশ প্রশাসনের অনুমতির অপেক্ষায় থাকতে হয়, তাহলে তা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। তাঁর ভাষ্য, মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী কেউ জামিন পেলেও যদি প্রশাসনিক কারণে মুক্তি না পান, তাহলে সেটি উদ্বেগের বিষয়।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান অবস্থার তুলনাও করেন। তাঁর দাবি, অতীতে রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দী কোনো ব্যক্তি জামিন পাওয়ার পর মুক্তির জন্য স্থানীয় এমপির ক্লিয়ারেন্স নেওয়ার প্রয়োজন হতো না।
মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, হুইপ ও মন্ত্রী শাহাবুদ্দিন আহমদের সময়ের উদাহরণ তুলে ধরে জাকির হোসেন বলেন, সে সময়ে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো মামলার আসামিকে জামিনের পর কারাগার থেকে মুক্ত করতে এমপির অনুমোদন প্রয়োজন হয়েছে বলে তাঁর জানা নেই।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।