রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে লিভার ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভব। বিখ্যাত পিয়ার রিভিউড আন্তর্জাতিক জার্নাল নেচার কমিউনিকেশন্সে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রাজধানীতে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।
আজ ২৩ জুন রোববার রাজধানী ঢাকার হলিডে ইন-এ “সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে লিভার ক্যান্সার সনাক্তকরণ” শিরোনামে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নিয়েছেন দেশের স্বনামধন্য সরকারি এবং বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক এবং গবেষকরা।
সুনির্দিষ্ট ডিএনএ মিথাইলেশন সিগনেচার পদ্ধতিতে লিভার ক্যান্সার নির্ণয় করতে সম্ভব বলে জানানো হয়েছে নেচার কমিউনিকেশন্সের নিবন্ধে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ঝুঁকিতে আছে এমন ব্যক্তিদের যেমন- লিভারের রোগ, টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং অ্যালকোহল গ্রহণকারীদের লিভার ক্যান্সার সনাক্তকরণে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসা সম্ভব। পরীক্ষার মাধ্যমে এই ধরণের ক্যান্সারের সাথে সম্পর্কযুক্ত অসুস্থতা ও মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমে আসবে।
লিভার ক্যান্সারের ব্যাপকতা বিশ্বের সব দেশেই দেখা যায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই রোগ দেরিতে শনাক্ত হয়। ফলে এই রোগের চিকিৎসা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় যা রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়। উদ্ভাবিত এই পরীক্ষা আধুনিক সিকোয়েন্সিং ও মাল্টিপ্লেক্সিং প্রক্রিয়া ব্যবহার করে সাধারণ টিস্যু, রক্তের অন্যান্য নমুনা ও নন-লিভার ক্যান্সার টিউমার থেকে লিভার ক্যান্সার নমুনাকে আলাদা করে প্রচলিত রোগ নির্ণয় পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা দূর করতে পারে।
৫৫৪ জন অংশগ্রহণকারীকে গবেষণার আওতায় এনে এই পরীক্ষাটির মূল্যায়ন করেছেন গবেষকরা। এর মধ্যে ছিল লিভার ক্যান্সার রোগী, নন-লিভার ক্যান্সার রোগী, ক্রনিক হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ও সুস্থ ব্যক্তি। ফলাফল হিসেবে পরীক্ষাটিতে লিভার ক্যান্সার শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে ৮৪ দশমিক ৫ শতাংশ সেন্সিটিভিটি ও ৯৫ শতাংশ স্পেসিফিসিটি দেখা গেছে। এই গবেষণা ফলাফল প্রাথমিক পর্যায়ে লিভার ক্যান্সার রোগের সনাক্ত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
এইচকেজি এপিথেরাপিউটিক্স লি, আইসিডিডিআরবি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের কয়েকজন প্রখ্যাত চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা এই গবেষণাটি সম্মিলিতভাবে করেছেন।