দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। সিলেট, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লায় হামের উপসর্গ নিয়ে একাধিক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত কয়েকটি বিভাগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সিলেটে তিন শিশুর মৃত্যু
সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে বিভাগটিতে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। একই সময়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হয়েছে ৮৭ জন।
মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে রয়েছে কানাইঘাট উপজেলার দুই বছর তিন মাস বয়সী হাফিজা আক্তার, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর এলাকার এক বছর পাঁচ মাস বয়সী রাইসা জান্নাত এবং ছাতকের আট মাস বয়সী আরিয়া জান্নাত।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত একদিনে নতুন করে ৯২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২৯৭ জন শিশু। তবে এ সময়ে নতুন কোনো রোগী পরীক্ষায় হাম পজিটিভ শনাক্ত হয়নি।
ময়মনসিংহে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরে বিভাগটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে।
মারা যাওয়া শিশুদের একজন জামালপুর সদর উপজেলার তিন মাস বয়সী আয়রা মনি। অপরজন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১০ মাস বয়সী হোসাইন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৩ শিশু হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৬ শিশু।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে মোট ১ হাজার ২৯৩ শিশু ভর্তি হয়। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ১৬৬ জন।
কুমিল্লায় ছয় মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুর নাম মোহাম্মদ রাব্বি আহমেদ। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মে শিশুটিকে হাম আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল। আজ ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে। আর জেলা জুড়ে মোট সাত শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৭ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। পরীক্ষায় আরও দুই শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ২৯ শিশু হাসপাতাল ছাড়ে।