সম্প্রতি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে চীন। নতুন এই মানচিত্রে ভারতের সমগ্র অরুণাচল রাজ্যটিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে দেশটি। এ নিয়ে বেইজিং ও দিল্লির মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এবার এই মানচিত্র প্রত্যাখ্যান করেছে আরও চারটি দেশ।
শুধু অরুণাচলই নয়, ‘আকসাই চিন’ নামে লাদাখ-সংলগ্ন যে ভূখন্ডটিকে ভারত নিজেদের বলে দাবি করে থাকে সেটিও আগের মতোই চীনের এই নতুন ম্যাপে জায়গা করে নিয়েছে। ভারতের পর ভিয়েতনাম বলছে, চীনের নতুন প্রকাশিত সরকারি মানচিত্র স্প্র্যাটলি এবং প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জের ওপর তার সার্বভৌমত্ব এবং এর জলসীমার এখতিয়ার লঙ্ঘন করা হয়েছে।
ভিয়েতনামের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাইন ডট লাইনের ওপর ভিত্তি করে চীনের মানচিত্রে যে সার্বভৌমত্ব এবং সামুদ্রিক অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তা অবৈধ।
বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফাম থু হ্যাং বলেছেন, নাইন ডট লাইনের ওপর ভিত্তি করে চীন দক্ষিণ চীন সাগরে যে সকল দাবি করেছে ভিয়েতনাম দৃঢ়ভাবে তার বিরোধিতা করে।
ফিলিপাইন বলেছে, তারা দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের বিস্তৃত দাবিকে স্বীকৃতি দেয় না। মালয়েশিয়া এবং তাইওয়ানের সরকারও বেইজিংকে তাদের ভূখণ্ড দাবি করার অভিযোগে কঠোর ভাষায় বিবৃতি দিয়েছে।
বুধবার বেইজিংয়ে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মানচিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, তার সরকার মনে করে এখানে যৌক্তিক কারণ আছে। তাই এ ব্যাপারে শান্ত থাকুন এবং অতিরিক্ত ব্যাখ্যা করা থেকে বিরত থাকুন। যেহতু চীন মানচিত্র প্রকাশ করেছে তাই প্রকাশক, কোম্পানি এবং অন্যদের কাছে এর সরকারি অনুমোদন রয়েছে। বিদেশি সংস্থাগুলো মাঝে মাঝে মানচিত্রের ব্যবহার নিয়ে চীনা সরকারের সঙ্গে ঝামেলায় পড়ে।
দক্ষিণ চীন সাগরের ৮০ শতাংশের বেশি দাবি করে চীন। ১৯৪৭ সালের মানচিত্রে এই দাবি আরও জোরালো করে বেইজিং যা নাইন ডট লাইন নামে পরিচিত। এই অংশের কিছু এলাকা ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, ব্রুনাই, মালয়েশিয়া এবং তাইওয়ান নিজেদের দাবি করে। এই সীমানা নিয়ে দেশগুলোর সঙ্গে চীনের প্রায়ই দ্বন্দ্ব বাধে।