ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে মদ-জুয়া ও নাইটক্লাবের বিল পরিশোধ করা যাবে না
সংবাদ পোস্ট
-
প্রকাশ কাল:
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
-
১২
জন দেখেছেন
ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর জন্য ‘ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড’ পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ নীতিমালায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কোন ধরনের পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ করা যাবে এবং কোনগুলো নিষিদ্ধ থাকবে, তা স্পষ্ট করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগ থেকে সোমবার এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে শরিয়াহবিরোধী বা বেআইনি কোনো পণ্য ও সেবা কেনা যাবে না। এর মধ্যে রয়েছে অ্যালকোহল, জুয়া, নাইটক্লাব, প্রচলিত বিমা কোম্পানি, অবৈধ ডেটিং বা ম্যাচমেকিং এবং শূকরের মাংসসংক্রান্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে কার্ডের ব্যবহার বন্ধ রাখতে ব্যাংকগুলোকে প্রযুক্তিগতভাবে ‘মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড’ ব্লক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোনো গ্রাহক নিষিদ্ধ বা বেআইনি লেনদেন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে কার্ডটি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানোর নির্দেশনাও রয়েছে।
ব্যাংকগুলো কী ধরনের মাশুল নিতে পারবে
নীতিমালায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকের জন্যও বিভিন্ন নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যাংক কার্ড ইস্যু, নবায়ন, প্রতিস্থাপন, পেমেন্ট নেটওয়ার্কের সুবিধা এবং হিসাব রক্ষণাবেক্ষণের মতো নির্দিষ্ট সেবার বিপরীতে ‘উজরহ’ বা সেবামূলক মাশুল নিতে পারবে।
তবে এই মাশুল গ্রাহকের বকেয়া অর্থ, ঋণের সীমা কিংবা বিল পরিশোধে বিলম্বের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তন করা যাবে না।
গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলে ব্যাংক কোনো বিলম্ব জরিমানা নিজেদের আয় হিসেবে নিতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে গ্রাহককে চুক্তির সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দাতব্য কাজে দেওয়ার অঙ্গীকার করতে হবে। ওই অর্থ ব্যাংকের নিজস্ব আয়ের বাইরে আলাদা দাতব্য হিসাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং শরিয়াহ কমিটির তত্ত্বাবধানে তা দান করা হবে।
গ্রাহকের নিরাপত্তায় নতুন নির্দেশনা
ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড চালুর আগে গ্রাহকের কাছ থেকে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ডভিত্তিক সম্মতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কার্ডের তথ্য গোপন রাখা এবং লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া কার্ড ব্লক করার অনুরোধ পাওয়ার পর সাত কার্যদিবসের মধ্যে অননুমোদিত লেনদেনের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা দুই স্তরের যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
‘কর্জ হাসান’ ও ‘উজরহ’ ভিত্তিতে পরিচালনা
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শরিয়াহসম্মত লেনদেনব্যবস্থা আরও উন্নত করা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষার উদ্দেশ্যেই এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোতে ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের মূল ভিত্তি হবে ‘কর্জ হাসান’—অর্থাৎ সুদমুক্ত ঋণ এবং ‘উজরহ’—অর্থাৎ সেবামূলক মাশুল। প্রচলিত ক্রেডিট কার্ডের মতো গ্রাহকের ঋণের ওপর ভিত্তি করে ব্যাংক আয় করতে পারবে না। পাশাপাশি গ্রাহক যেন তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত ব্যয় না করেন, সেটিও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকে নিবন্ধিত ইসলামি ব্যাংক অথবা প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামিক উইন্ডো বা শাখা এ ধরনের কার্ড ইস্যু করতে পারবে। আর বৈদেশিক মুদ্রা বা দ্বৈত মুদ্রার ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অনুমোদিত ডিলার হতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন নীতিমালার ফলে ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার, পরিচালনা ও গ্রাহক সুরক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর জন্য একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি হলো।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
এ বিভাগের আরো খবর