1. abdullahalniat1952@gmail.com : Abdullah Al Niat : Abdullah Al Niat
  2. rangpursangbad@gmail.com : সংবাদ পোস্ট : সংবাদ পোস্ট
  3. aktutul350@gmail.com : Aktutul :
  4. saimumsiam4@gmail.com : Saimum Siam : Saimum Siam
  5. Sumonalilykhan@gmail.com : Sumona lily khan : Sumona lily khan
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৮:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মহিষের তাণ্ডবে প্রাণ গেল দুজনের, আতঙ্ক ছড়ায় দেওয়ানগঞ্জের পশুর হাটে বরগুনায় আদালতের সামনে নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার ইউরো জেতানো অধিনায়ককে ছাড়াই স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৬ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত বিএনপি সরকারের তিন মাসে ধর্ষণের শিকার ১৩৭ জন, ৯১ জনই শিশু নাড়ির টানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক-পিকআপে ফিরছে মানুষ একাধিক উপদেষ্টার প্রভাবে তিনবার পদত্যাগ করতে চেয়েছিলাম: তৌহিদ হোসেন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালেন শেখ হাসিনা টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে জাতিসংঘের নামে ‘মিথ্যা মৃত্যুর সংখ্যা’ প্রচার করে জুলাই নিয়ে বয়ান দাঁড় করানো হয়েছে: আরাফাত

কোরবানির শরয়ি মর্যাদা

সংবাদ পোস্ট
  • প্রকাশ কাল: বুধবার, ২৮ জুন, ২০২৩
  • ১২২ জন দেখেছেন

ইসলামী শরিয়তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান কোরবানি। কোরবানি খুবই মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। এতে আছে আত্মত্যাগের মহিমা ও আর্তের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার গৌরব। আদিপিতা হজরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিল থেকে শুরু হওয়া এ কোরবানির ইতিহাস মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর শিশুপুত্র ইসমাইলের (আ.) মহান আত্মবিসর্জনে উজ্জ্বল নিদর্শন, যা কেয়ামত পর্যন্ত অম্লান থাকবে। স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক, মুসলমান নারী-পুরুষ যদি ‘নিসাব’ পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকেন, তাদের পক্ষ থেকে একটি কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব বা আবশ্যক। জাকাতের মতো এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়, বরং কোরবানির দিনগুলো জিলহজ মাসের ১০-১৩ তারিখে প্রয়োজন অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পত্তি থাকলেই কোরবানি আদায় করা ওয়াজিব হবে। নিসাব হলো সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা অথবা এর সমমূল্যের নগদ টাকা ও ব্যবসার পণ্য বা সম্পদ।

কোরবানির শরয়ি মর্যাদা নিয়ে বিভিন্ন মাজহাবের বিভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। শাফেয়ি, মালেকি ও হাম্বলি মাজহাব মতে কোরবানি করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। বিনা ওজরে ছেড়ে দেওয়া মাকরুহ। ইমাম শাফেয়ির বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল উম্মে’ লেখা আছে : ‘কোরবানি করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত, ছেড়ে দেওয়া পছন্দনীয় নয়।’ (কিতাবুল উম্ম, তৃতীয় খণ্ড, ২৫৫ পৃষ্ঠা)। মালেকি মাজহাবের প্রসিদ্ধ ফিকাহ গ্রন্থ ‘আল মুদাওয়ানাতুল কুবরা’য় ইমাম মালেক (রহ.)-এর বরাতে লেখা হয়েছে, ‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করা আমার পছন্দ নয়।’ (আল মুদাওয়ানাতুল কুবরা, পৃষ্ঠা ৭০)। কোরবানির বিধানগত স্তর সম্পর্কে হাম্বলি মাজহাবের প্রসিদ্ধ কিতাব ‘আল মুগনি’তে বলা হয়েছে : ‘অধিকাংশ আলেমদের মত হচ্ছে, কোরবানি করা সুন্নত, ওয়াজিব নয়।’ (আল মুগনি, ১৩ খণ্ড, ১২২ পৃষ্ঠা)।

আমরা দেখেছি, প্রসিদ্ধ তিন মাজহাবেরই কোরবানির ব্যাপারে মত হচ্ছে তা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এসব ইমাম ছাড়াও অনেক তাবেয়ি ও সালফে সালেহিন কোরবানিকে ওয়াজিব মনে করেননি। এসব বিজ্ঞ আলেম কোরবানিকে সুন্নত বলার দলিল হিসেবে প্রিয় নবী (সা.)-এর একটি হাদিস উল্লেখ করেন। যেখানে রসুল (সা.)-এর বরাতে বলা হয়েছে : ‘যাদের কোরবানি করার ইচ্ছা আছে জিলহজ শুরুর হওয়ার পর তারা যেন নিজেদের নখ, চুল ইত্যাদি না কাটে।’ (মুসলিম)। এ হাদিসের ভাষা থেকে বোঝা যাচ্ছে, কোরবানি করা আবশ্যক নয় বরং ঐচ্ছিক। যদি আবশ্যক হতো তাহলে রসুল (সা.) ‘যাদের কোরবানি করার ইচ্ছা আছে’ এ ধরনের কথা বলতেন না।

সালফে সালেহিনরা কোরবানিকে সুন্নত বলেন আরেকটি বর্ণনার ভিত্তিতে। বায়হাকির এক বর্ণনায় এসেছে, ‘হজরত আবুবকর ও ওমর (রা.) ওয়াজিব হয়ে যাওয়ার ভয়ে এক-দুই বছর কোরবানি করেননি।’ যদি কোরবানির বিধান ওয়াজিবই হতো তাহলে এই মহান সাহাবিরা কোরবানি ছাড়তেন না।

এ তো গেল তিন মাজহাবের ফতোয়া। কোরবানি সম্পর্কে আমাদের মাজহাবের ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ফতোয়া হলো : কোরবানি করা ওয়াজিব। সালফে সালেহিনদের মধ্যে ইমাম রাবিয়াতুর রায়, আওজায়ি, লাইস বিন সাদ মিসারি, সুফিয়ান সাওরি, ইবরাহিম নাখয়ি, মুজাহিদ, মাকহুল শাবি (রহ.) কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ফতোয়া দিয়েছেন। ইমাম মালেক (রহ.)-এর এক মতেও কোরবানি ওয়াজিব ফতোয়া পাওয়া যায়।

কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার দলিল হিসেবে সুরা কাওসারের এ আয়াত দুটি উল্লেখ করা হয় : ‘হে নবী! নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। তাই আপনার পালনকর্তার উদ্দেশে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন।’ (সুরা কাওসার ১-২)। এ আয়াতের ব্যাখ্যা হলো : ‘হে রসুল! আপনাকে আমি কাওসার নামক নেয়ামত দান করেছি। তাই আপনি ঈদের নামাজ আদায় করুন এবং নহর তথা কোরবানি করুন ওই প্রভুর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে এবং তাঁরই নামে। আল্লাহর এ নির্দেশের কারণে ঈদের নামাজ যেমন ওয়াজিব, কোরবানিও ওয়াজিব।’ কোরবানির ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে হাদিসের দলিল হলো : আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, হাদিস নম্বর ৩১২৩)। ইমাম ইবনে মাজাহ (রহ.) বলেন, ‘হাদিসটি কোরবানি ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে কঠিন ধমকি। আর এমনটি হয় ওয়াজিব তরককারীদের ক্ষেত্রে। হাদিসটিকে ইমাম হাকেম সহি বলেছেন। ইমাম জাহাবি তালখিসেও সহি বলেছেন। ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) ফাতহুল বারিতে হাদিসটি সহি বলে রায় দিয়েছেন। আল্লামা আইনি বলেন, হাদিসটির সনদ বুখারি-মুসলিমের সমতুল্য। হজরত জাবের (রা.) বলেন, রসুল (সা.) মদিনায় ঈদের নামাজ পড়িয়েছেন। কিছু লোক নামাজের আগেই কোরবানি করে ফেলেছেন এ ধারণায় যে, হয়তো রসুল (সা.)ও কোরবানি করে ফেলেছেন। বিষয়টি জানতে পেরে রসুল (সা.) ঘোষণা করলেন, যারা নামাজের আগে কোরবানি করেছে তাদের অবশ্যই আবার কোরবানি করতে হবে। আর তোমরা কেউ রসুলের আগে কোরবানি করবে না।’ (মুসলিস, হাদিস নম্বর-১৯৬৪)। এ হাদিসও প্রমাণ করে কোরবানি করা ওয়াজিব। যদি কোরবানি ওয়াজিব না হতো, তাহলে রসুল (সা.) আবার কোরবানির আদেশ দিতেন না।

লেখক : চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো খবর
Sangbadpost © All rights reserved 2026
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )