সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক তাঁর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মরহুম আল্লামা নূরউদ্দীন গহরপুরী (রহ.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে গহরপুরী হুজুরকে অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আব্দুল মালিক বলেন, সম্প্রতি তাঁর একটি বক্তব্যকে ঘিরে গহরপুরী হুজুরের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার প্রয়োজন অনুভব করেছেন।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, আল্লামা নূরউদ্দীন গহরপুরী তাঁর পরম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। জীবদ্দশায় তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছিল এবং পবিত্র হজ পালনের সময়ও তিনি গহরপুরী হুজুরের সান্নিধ্যে ছিলেন। তিনি বলেন, গহরপুরী হুজুরের জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ধর্মীয় নেতৃত্ব ও সমাজে অবদানের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ছিল এবং এখনো রয়েছে।
সংসদ সদস্য বলেন, মরহুম গহরপুরী হুজুর জীবদ্দশায় বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ ও সামাজিক বিষয়ে নিজস্ব অবস্থান পোষণ করতেন। তবে বর্তমানে তিনি আর বেঁচে নেই। একজন মরহুম আলেম হিসেবে তিনি সবসময় শ্রদ্ধা ও সম্মানের পাত্র। তাঁর নাম বা ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হোক, সেটি তিনি কখনো চান না।
নিজের বক্তব্যের কারণে যদি গহরপুরী হুজুরের পরিবার, অনুসারী, ভক্ত বা শুভাকাঙ্ক্ষীদের কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে তাঁদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন আব্দুল মালিক। তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সবাই বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখবেন এবং ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিবৃতির শেষাংশে সিলেট-৩ আসনের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আব্দুল মালিক বলেন, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও সিলেট সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত ওয়ার্ডগুলোর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবার প্রতিনিধি। এলাকার উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।