পরিবারের দারিদ্রতায় এসএসসির গণ্ডি পার হয়নি সাগরের। সংসারের হাল ধরতে দর্শনা পৌর এলাকার চটকাতলায় একটি মুদি দোকান দিয়েছিলেন তিনি। এরমধ্যে বিয়ে, সংসারে জন্ম নেয় একটি পুত্রসন্তান। বড় হয় সংসারের বোঝা। এক বছর পূর্বে সংসারের অভাব মেটাতে সাগর চাকরি নেন পূর্বাশা পরিবহনের একটি কোচের সুপারভাইজার হিসেবে। গত সোমবার রাত ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাস উল্টে খাদে পড়ে। ওই বাসেই ছিলেন সাগর। বাসের যাত্রী, চালক ও হেলপার প্রাণে বাঁচলেও দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় পরিবারের একমাত্র উর্পাজনক্ষম ব্যক্তি সুপারভাইজার সাগরের।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে সাগরের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, তার মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কান্নায় বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন সাগরের মা-বাবা, বোন ও স্ত্রী। সাগরের প্রতিবেশীরা বলেন, এলাকার ভালো ছেলে হিসেবে সাগরের সুনাম ছিল। পরিবারের দারিদ্রতায় এসএসসির গণ্ডি পার না করেই সংসারের হাল ধরেছিলেন তিনি। দর্শনা পৌর এলাকার চটকাতলায় একটি মুদি দোকানও দিয়েছিলেন সাগর। সংসারে অভাব ছিল তার। বছর খানেক পূর্বে সংসারের অভাব মেটাতে মুদি দোকান রেখে পুর্বাশা পরিবহনের সুপারভাইজার হিসেবে চাকরি নেন তিনি। এরপর থেকে মা-বাবা, বোন, স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে সুখেই কাটছিল সাগরের দিন। কিন্তু আকস্মিক দুর্ঘটনায় সাগরের মৃত্যুতে সংসারটি এখন অকূল সাগরে পড়ল। এতিম হলো তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলেটি।
এদিকে, গতকাল বাদ যোহর দর্শনা কেরুজ বাজার মাঠ প্রাঙ্গনে সাগরের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন শত শত মুসল্লি। জানাজা শেষে দর্শনা মোবারকপাড়ার কবরস্থানের বেদনাবিধুর পরিবেশে নিহত সাগরের লাশের দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।