সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে রাজধানীর ন্যাম ভবনে তাঁর শয়নকক্ষের পাশের বারান্দাতেও ঘুমাতে হতো বলে আদালতকে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুলকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আদালতে এ তথ্য তুলে ধরেন।

২৪ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামকে ডিবির একটি সাদা গাড়িতে করে আদালতে আনা হয়েছিল। সেদিন তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছিল।
মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার গাজী নজরুল ইসলামকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলার বাদী ও মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ তাঁর আত্মীয়। ঢাকায় এলে তিনি ওই আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করতেন এবং সেখান থেকেই সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এ সময় মরিয়মের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তিনি মরিয়মকে বিয়ে করেন বলে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন গাজী নজরুল ইসলাম ধর্মীয় নিয়মে মরিয়মকে বিয়ে করেন। পরে নিজ এলাকায় তাঁদের বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়।
আদালতে দেওয়া আবেদনে আরও বলা হয়, গাজী নজরুল তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে নিয়ে ন্যাম ভবনে বসবাস করতেন। সেখানে অবস্থানের সময় মরিয়মকে মাঝেমধ্যে নজরুল ইসলামের শয়নকক্ষের পাশের ব্যালকনিতে ঘুমাতে হতো বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, গাজী নজরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার ঘটনার বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই রাতেই গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
পরদিন আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিনের এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকছুদা ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে মামলার তৃতীয় আসামি ওবায়দুর রহমানকেও ঢাকার বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য ও অন্যান্য আলামত যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।