ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় প্রায় দুই দশক ধরে এক মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা জামায়াতের এক নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত মো. মহিউদ্দিন তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি। অভিযোগ অনুযায়ী, একই নামের এক মৃত শিক্ষকের পরিচয় ও ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
জানা গেছে, ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার জুনিয়র শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ নিয়োগ পান। পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়ে যায়। এরপর ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত মহিউদ্দিন ওই মাদরাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করে তিনি বিধিবহির্ভূতভাবে মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন অব্যাহত রাখেন। এমনকি ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও তালিকাতেও ওই মৃত শিক্ষকের হিসাবের তথ্য ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি নজরে আসার পর মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মাদরাসার সুপার বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর নথিপত্র পর্যালোচনা করতে গিয়ে বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। তাঁর দাবি, গত ২০ বছর ধরে সরকারের লাখ লাখ টাকা অনিয়মের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়ে থাকতে পারে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে এবং রাষ্ট্রের ক্ষতির পরিমাণও নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মহিউদ্দিন দাবি করেন, ব্যাংক হিসাব নম্বর একই হলেও ওই হিসাব থেকে তিনি বেতন উত্তোলন করেননি। তবে কোন হিসাবের মাধ্যমে বেতন নিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দিয়েই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানিয়েছেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সরকারি অর্থ আদায়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।