নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ পোস্ট
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠান যমুনা ব্যাংক পিএলসি চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৩১ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১ টাকা ১৩ পয়সা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়। ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৯০ পয়সা
যমুনা ব্যাংকের প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম নয় মাসে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৫ টাকা ৩৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৪ টাকা ৪৪ পয়সা।
অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৯০ পয়সা। শতকরা হিসাবে এ প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০ দশমিক ২৭ শতাংশ। ফলে তৃতীয় প্রান্তিকের পাশাপাশি বছরের প্রথম নয় মাসের হিসাবেও শেয়ারপ্রতি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
তৃতীয় প্রান্তিকেও আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত
চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে যমুনা ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ পয়সা বেশি হয়েছে। গত বছর জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ১ টাকা ১৩ পয়সা। চলতি বছর একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৩১ পয়সায়।
শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএসের মাধ্যমে একটি কোম্পানি তার প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে কত আয় করেছে, তার ধারণা পাওয়া যায়। এ কারণে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা সাধারণত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণের সময় ইপিএসের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখেন।
তবে শুধু ইপিএস বৃদ্ধির ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক আর্থিক অবস্থার চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা যায় না। এর পাশাপাশি ব্যাংকটির নিট মুনাফা, ঋণের মান, খেলাপি ঋণের পরিমাণ, পরিচালন ব্যয় এবং নগদ প্রবাহের মতো বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২৯ টাকা ৯৪ পয়সা
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে যমুনা ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৯ টাকা ৯৪ পয়সা।
শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য একটি প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদ থেকে দায় বাদ দেওয়ার পর শেয়ারপ্রতি যে পরিমাণ সম্পদমূল্য থাকে, তার হিসাব তুলে ধরে। বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির আর্থিক অবস্থার একটি ধারণা পেতে এ সূচক ব্যবহার করেন।
যমুনা ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সেপ্টেম্বর শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যের অবস্থানও আর্থিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বিনিয়োগকারীদের নজরে ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস। এসব প্রতিবেদনের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানের আয়, সম্পদমূল্য এবং ব্যবসায়িক অগ্রগতির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
যমুনা ব্যাংকের ক্ষেত্রে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রায় ১৬ শতাংশ এবং প্রথম নয় মাসে প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ আর্থিক সক্ষমতা ও শেয়ারের সম্ভাবনা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক সূচক বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: শেয়ারবাজারনিউজ.কম; যমুনা ব্যাংক পিএলসির প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন।
বিভাগ: অর্থনীতি ও শেয়ারবাজার