নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ পোস্ট
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর ২০২৬: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে কোনো ধরনের মব বা বেআইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালিত হবে এবং তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা এবং তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি দেশে ফিরে এলে বিচারের মুখোমুখি হবেন। তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তথ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে কোনো ধরনের মবের মুখোমুখি হতে হবে না কিংবা কোনো বেআইনি পরিস্থিতির শিকার হতে হবে না। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নয়, বরং বিচারব্যবস্থার মাধ্যমেই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানান তিনি।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার বিচারিক অবস্থার প্রসঙ্গ তুলে উপদেষ্টা তাঁকে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইন ও বিচারপ্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচনা প্রসঙ্গেও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সম্ভাব্য সময়ের কথা সামনে আসছে। কখনো ডিসেম্বরের পর জুনে দেশে ফেরার কথা বলা হচ্ছে, আবার জুনের পর ডিসেম্বরের কথা আসছে। এভাবে নির্দিষ্ট সময় নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা চলতে থাকলে একই বিষয় বারবার সামনে আসবে।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে সরকার খুশি হবে বলেও মন্তব্য করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁর বক্তব্যের অর্থ হলো, তিনি দেশে ফিরলে তাঁকে ফিরিয়ে আনার জন্য জোরপূর্বক কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না; বরং দেশে ফিরেই তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রসঙ্গ টানেন ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এরশাদের পতনের পরও তিনি বাংলাদেশে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছে এবং তিনি নির্বাচনী রাজনীতিতেও অংশ নিয়েছেন।
তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যে উঠে আসে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও দেশে অবস্থান করে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার নজির রয়েছে। এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বোঝাতে চান, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বেআইনি পরিস্থিতি তৈরি করা হবে না; বরং আইন অনুযায়ী বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পর তাঁর নিরাপত্তা ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা অতীতে অন্যদের প্রতি ন্যায়বিচার করেননি, তবে তাঁর ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।
তাঁর বক্তব্যে সরকারের অবস্থান হিসেবে তুলে ধরা হয়, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ বা বিচারিক কার্যক্রমের কারণে তাঁকে জনতার হাতে ছেড়ে দেওয়া কিংবা আইনবহির্ভূত পরিস্থিতির মুখোমুখি করা হবে না। বরং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে তিনি কবে দেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করা হয়নি। তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে মব বা বেআইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না; তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।
বিভাগ: জাতীয় | রাজনীতি
সূত্র: শেয়ারবাজারনিউজ, প্রথম আলো ও যুগান্তর।