পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা পিএলসি চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। একই সঙ্গে বছরের প্রথম নয় মাসের হিসাবেও কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত কোম্পানিটির অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় ৪৮ পয়সা
প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে রবি আজিয়াটার শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৪৬ পয়সা।
অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ২ পয়সা। শতাংশের হিসাবে এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ বুধবার অনুষ্ঠিত সভায় চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদন করে। পরে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি
শুধু তৃতীয় প্রান্তিকেই নয়, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসেও রবির শেয়ারপ্রতি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৪৩ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ১৯ পয়সা।
এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ২৪ পয়সা। শতাংশের হিসাবে প্রবৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় ২০ দশমিক ১৭ শতাংশ।
তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় প্রথম নয় মাসের হিসাবে বেশি প্রবৃদ্ধি কোম্পানিটির আয়ের ধারাবাহিক উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। তবে শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধি একাই কোম্পানিটির সামগ্রিক আর্থিক অবস্থার পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না। এ ক্ষেত্রে রাজস্ব, পরিচালন ব্যয়, নগদ প্রবাহ এবং অন্যান্য আর্থিক সূচকও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ১৩ টাকা ১ পয়সা
কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে রবি আজিয়াটার শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ১ পয়সা।
শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য একটি কোম্পানির সম্পদ ও দায়ের হিসাব থেকে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা দেয়। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক অবস্থা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ইপিএসের পাশাপাশি এনএভিপিএসসহ অন্যান্য আর্থিক সূচকও বিবেচনা করেন।
বিনিয়োগকারীদের নজর আর্থিক প্রতিবেদনে
রবি আজিয়াটার তৃতীয় প্রান্তিকের শেয়ারপ্রতি আয় গত বছরের তুলনায় সামান্য বাড়লেও প্রথম নয় মাসের হিসাবে প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ফলে কোম্পানিটির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে বলেই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই। শেয়ারের বাজারদর নির্ভর করে কোম্পানির আর্থিক ফলাফল, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, বাজার পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের চাহিদাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।
সূত্র: শেয়ারবাজারনিউজ.কম এবং কোম্পানির প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য।