ক্রীড়া ডেস্ক→ ক্রিকেট | সংবাদ পোস্ট
জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হারের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই নতুন করে শাস্তির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মন্থর ওভাররেটের কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ জরিমানা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এক ওভার কম বোলিং করায় এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় অভিযোগ স্বীকার করে শাস্তি মেনে নেওয়ায় এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচে এই নিয়মভঙ্গের ঘটনা ঘটে। ম্যাচ রেফারি ডেভিড গিলবার্ট পর্যালোচনা করে জানান, নির্ধারিত সময়ের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ এক ওভার পিছিয়ে ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসির আচরণবিধি অনুসারে জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ক্রিকেটে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বোলিং ইনিংসের ওভার শেষ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। ম্যাচ চলাকালে বিভিন্ন কারণে খেলার গতি কমে যেতে পারে। তবে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ওভার শেষ করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট দলের বিরুদ্ধে মন্থর ওভাররেটের অভিযোগ আনা হয়।
বাংলাদেশের বিপক্ষে এই অভিযোগ আনেন অন-ফিল্ড আম্পায়ার আলাউদ্দিন পালেকর ও ইজাতউল্লাহ সাফি। তৃতীয় আম্পায়ার আহসান রাজা এবং চতুর্থ আম্পায়ার আহমেদ শাহ দুররানিও অভিযোগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
আইসিসির আচরণবিধির ২.২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্ধারিত ওভাররেটের তুলনায় প্রতি ওভার পিছিয়ে থাকার জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ করে জরিমানা করা হয়। বাংলাদেশ এক ওভার পিছিয়ে থাকায় খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় অভিযোগ স্বীকার করে প্রস্তাবিত শাস্তি মেনে নেন। ফলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।
মাঠের পারফরম্যান্সেও বাংলাদেশের জন্য দিনটি ছিল হতাশার। ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের ইনিংস থেমে যায় ১৭২ রানে। ৩৩.৪ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ম্যাচটি হারে ৯৯ রানে।
বাংলাদেশের বোলিংয়ে তাসকিন আহমেদ তিনটি উইকেট নিলেও জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের বড় সংগ্রহ গড়া পুরোপুরি ঠেকানো যায়নি। ক্রেইগ আরভিন ৯৩ রান এবং ব্রেন্ডন টেলর ৮১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। তাঁদের ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ে শুরুতে চাপে পড়েও শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যায়।
রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতে ভালো সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারানোর ধারাবাহিকতায় সেই সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায়। তানজিদ হাসান ৪৬ রান করলেও অন্য ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় বড় লক্ষ্য তাড়া করা সম্ভব হয়নি। জিম্বাবুয়ের ব্র্যাড ইভান্স চারটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন।
ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই হার বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাক্কা। ফাইনালে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে পরবর্তী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও ফাইনালে ওঠার চূড়ান্ত সমীকরণ নির্ভর করবে সিরিজের অন্য ম্যাচগুলোর ফলের ওপরও। ফলে শুধু নিজেদের পারফরম্যান্স নয়, প্রতিপক্ষের ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হতে পারে দলকে।
ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতার অভাব, মাঝের ওভারগুলোতে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে না পারা এবং এবার মন্থর ওভাররেটের জরিমানা—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে ভালো ফল করার পাশাপাশি সময় ব্যবস্থাপনা ও মাঠের শৃঙ্খলাতেও উন্নতি করতে হবে তাওহীদ হৃদয়দের।
সূত্র: প্রথম আলো, আইসিসির আচরণবিধি ও ম্যাচসংক্রান্ত প্রতিবেদন।