সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্যের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। তালিকায় ভারতের কলকাতা ১৮৭ একিউআই নিয়ে প্রথম এবং সিঙ্গাপুর ১৮৪ একিউআই নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। ভিয়েতনামের হ্যানয় ১৭৮ একিউআই নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল।
ঢাকার বায়ুদূষণের অন্যতম উৎস হলো যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য পোড়ানো। এসব উৎস থেকে নির্গত সূক্ষ্ম কণা ও ক্ষতিকর গ্যাস বাতাসের মান খারাপ করে তোলে।
বিশেষ করে পিএম২.৫ ও পিএম১০ ধরনের সূক্ষ্ম কণা মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। অতিক্ষুদ্র এসব কণার দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ শ্বাসতন্ত্র ও হৃদ্যন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণ শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, কর্মক্ষমতা এবং নগরজীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
দূষিত বাতাসের প্রভাব সবার ওপর পড়তে পারে। তবে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং হাঁপানি বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে বাইরে দীর্ঘ সময় অবস্থান না করা, ভারী শারীরিক পরিশ্রম কমানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভালো মানের কণা-ফিল্টারযুক্ত মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঘরের ভেতরেও ধোঁয়া ও ধুলাবালি প্রবেশ কমানোর চেষ্টা করা উচিত।
ঢাকার বায়ুমান উন্নত করতে যানবাহনের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণস্থলে ধুলাবালি কমানো, শিল্পকারখানার নির্গমন পর্যবেক্ষণ এবং খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ করা জরুরি।
পাশাপাশি নিয়মিত বায়ুমান পর্যবেক্ষণ, পরিবেশবিষয়ক আইন বাস্তবায়ন এবং নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারি সংস্থার পাশাপাশি পরিবহন মালিক, নির্মাণপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাও কার্যকর করা জরুরি। অন্যথায় দূষিত বাতাস নগরবাসীর স্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত হুমকি হয়ে থাকবে।
সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন, আইকিউএয়ার।
প্রতিবেদনের তথ্য: ১১ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৮টা ৩১ মিনিটের বায়ুমান সূচক অনুযায়ী ঢাকার অবস্থান ও দূষণের মাত্রা উল্লেখ করা হয়েছে।