জাতীয়-অপরাধ| সংবাদ পোস্ট
ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণবার ও স্বর্ণপেস্টের বস্তু জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) পরিচালিত এসব অভিযানে চট্টগ্রামে রান্নার সরঞ্জামের ভেতরে লুকানো স্বর্ণবার এবং ঢাকায় দুই যাত্রীর শরীরে লুকানো স্বর্ণপেস্টের বস্তু উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৭টার দিকে আবুধাবি থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-৩৫০ ফ্লাইটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন এক যাত্রী। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে আগে থেকেই নজরদারিতে ছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ওই যাত্রী ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার বহনের ঘোষণা দিলেও অতিরিক্ত স্বর্ণ থাকার কথা অস্বীকার করেন। পরে অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাঁর ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়। এ সময় একটি ফ্রাইপ্যান ও সবজি কাটার গ্রেটারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো চারটি খণ্ডিত স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। এসব স্বর্ণবারের ওজন ছিল ৪৬৬ গ্রাম।
ঘোষণা দেওয়া ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ মোট ৫৬৬ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করা হয়। শুল্ক ও করসহ জব্দ করা স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ৯৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, রোববার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে মালদ্বীপ থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-৩৩৮ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন দুই যাত্রী।
কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাঁদের তল্লাশি করে প্রত্যেকের শরীরের মলদ্বারে লুকানো অবস্থায় তিনটি করে মোট ছয়টি ডিম্বাকৃতির স্বর্ণপেস্টের বস্তু উদ্ধার করেন। এসব বস্তুর প্রাথমিক মোট ওজন ২ কেজি ৭৩৪ গ্রাম। এগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা।
তবে উদ্ধার করা বস্তুগুলোর মধ্যে প্রকৃত স্বর্ণের পরিমাণ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। প্রমাণের যথাযথতা সংরক্ষণের জন্য বস্তুগুলো অবিকৃত রাখা হয়েছে। উপযুক্ত পরীক্ষার পর বিশুদ্ধ স্বর্ণের পরিমাণ ও প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি এবং ঝুঁকিভিত্তিক যাত্রী তল্লাশির মাধ্যমে বিমানবন্দরগুলোতে স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একই দিনে দেশের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিন্ন কৌশলে স্বর্ণ আনার ঘটনায় চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও তল্লাশির গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।