1. abdullahalniat1952@gmail.com : Abdullah Al Niat : Abdullah Al Niat
  2. rangpursangbad@gmail.com : সংবাদ পোস্ট : সংবাদ পোস্ট
  3. aktutul350@gmail.com : Aktutul :
  4. saimumsadik1@gmail.com : Saimum Sadik : Saimum Sadik
  5. Sumonalilykhan@gmail.com : Sumona lily khan : Sumona lily khan
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানের বিতর্কের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাকের দেশের প্রথম নারী প্রধান তথ্য কমিশনার নাহরিন ইসলাম খান, জানালেন অগ্রাধিকারের কথা পুলিশে ২৪ হাজার ৬৭৭টি নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ, বাড়ছে জনবল রাজধানীতে ১৩ স্থানে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, হাসপাতালকে ৭ দিনের সময় চোটে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন লিটন দাস, দলে পারভেজ হোসেন ইমন কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল নারীশিশুসহ ১৯ জনের, আহত ৩৭ উত্তরায় পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত অন্তত অর্ধশতাধিক এসএসসি পাসেই সরকারি চাকরির সুযোগ, ৩৯ পদে লোক নেবে বিপিএটিসি দেশের ৪৭ শতাংশের বেশি পরিবার ঋণের চাপে, আয়-ব্যয়ের হিসাবে বড় ঘাটতি জিম্বাবুয়ের কাছে বড় হারের পর ব্যাটারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন তাসকিন

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানের বিতর্কের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাকের

সংবাদ পোস্ট
  • প্রকাশ কাল: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৩ জন দেখেছেন

উপশিরোনাম: প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশের পর বেলা দুইটায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি  মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী; মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা; আত্মরক্ষার যুক্তি তাঁর, অস্ত্র প্রদর্শনের বৈধতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ পোস্ট

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। এ ঘটনার এক দিনের মাথায় তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে ইশরাক জানিয়েছেন, সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সামনে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন তিনি।

অস্ত্র হাতে অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর কর্মকাণ্ডের আইনগত দিক, একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্বশীল আচরণ এবং মাদক দমনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রথম আলোর একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাককে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। সরকার-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে পদত্যাগের ঘোষণা, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া এবং আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ কার্যকর হওয়া—এগুলো পৃথক বিষয়।

গেন্ডারিয়ায় কী ঘটেছিল

গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ইশরাক হোসেন। তাঁর নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাঁকে চিৎকার করতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র ছিল।

ভিডিওর একটি অংশে তাঁর একজন সঙ্গীকে এক ব্যক্তির উদ্দেশে গুলি করার হুমকি দিতে শোনা যায়। এ ছাড়া অভিযানের সময় একজন দেহরক্ষীকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায় বলে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর একজন প্রতিমন্ত্রী কেন নিজে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিলেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। মাদক দমনে প্রশাসনকে সক্রিয় করার পরিবর্তে জনপ্রতিনিধির নিজে এভাবে অভিযানে অংশ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের অনেকে।

আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র তোলার দাবি ইশরাকের

সমালোচনার মুখে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তাঁর দাবি, গেন্ডারিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারের অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ এবং স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগও নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

ইশরাকের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে যাওয়ার আগে তিনি জানতে পারেন, মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে। পরে একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি হইচই করে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তার জন্য তিনি এবং তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন বলে দাবি করেন তিনি।

ইশরাক আরও দাবি করেন, তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত। আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই তিনি অস্ত্রটি প্রদর্শন করেছিলেন এবং এতে আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি বলে তাঁর বক্তব্য।

তবে অস্ত্রের লাইসেন্স থাকা এবং জনসমক্ষে অস্ত্র প্রদর্শনের বৈধতা একই বিষয় নয়। অস্ত্র প্রদর্শনের ধরন, পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য আইন ও নীতিমালার আলোকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অভিযানে কী পাওয়া গেছে বলে দাবি

নিজের বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, মাদকবিরোধী অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেখান থেকে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।

তাঁর অভিযোগ, কয়েকটি গণমাধ্যম ঘটনার খণ্ডিত চিত্র তুলে ধরেছে এবং অভিযানের মূল উদ্দেশ্য যথাযথভাবে প্রকাশ করেনি।

তবে অভিযানে জব্দ করা সামগ্রীর বিবরণ, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও তাঁদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া এসব দাবিকে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ

ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদে অন্যের মনে ভয় বা বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে—এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন না করার বিধান রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ইশরাকের অস্ত্রের লাইসেন্স বৈধ কি না, অস্ত্র প্রদর্শনের পরিস্থিতি কী ছিল এবং তাঁর ব্যাখ্যার সঙ্গে ভিডিও ও অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণের মিল রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

রাজনীতিতে ইশরাক হোসেনের উত্থান

ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে তাঁর বাবা বিএনপির প্রয়াত নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার নাম ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা, মন্ত্রী এবং অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের শেষ মেয়র। পুরান ঢাকায় তাঁর শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তি ছিল।

২০১৯ সালে বাবার মৃত্যুর পর সেই রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিমণ্ডল থেকেই সামনে আসেন ইশরাক। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন এবং দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য হন।

পুরান ঢাকায় দলীয় কর্মসূচি, সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিএনপির তরুণ কর্মীদের মধ্যে পরিচিতি অর্জন করেন তিনি। প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

প্রথম আলোর বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে বিতর্কে জড়ানোর ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।

মেয়র হওয়ার আন্দোলন ঘিরেও বিতর্ক

২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন ইশরাক হোসেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস জয়ী হন। ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ইশরাক আইনি লড়াই শুরু করেন।

২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মেয়র ঘোষণা করেন বলে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করে। তবে তাঁকে শপথ পড়ানো নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় এবং বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

শপথ গ্রহণের দাবিতে ২০২৫ সালের মে মাসে তাঁর সমর্থকেরা নগর ভবন ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে নগর ভবনের ফটকে তালা দেওয়া হয় এবং সিটি করপোরেশনের নাগরিক সেবা ব্যাহত হয়। ইশরাকও আন্দোলনে যোগ দিয়ে শপথের ব্যবস্থা না হলে নিজেই শপথ নিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

তাঁর সমর্থকেরা আন্দোলনটিকে নির্বাচনী রায় বাস্তবায়ন ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি হিসেবে দেখলেও নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ার কারণে সমালোচনাও হয়েছিল। প্রথম আলোর বিশ্লেষণে এসব ঘটনাকে তাঁর রাজনৈতিক আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়ে ওঠা প্রশ্নের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

জুলাইয়ের একটি অনুষ্ঠান নিয়েও সমালোচনা

প্রথম আলোর বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে তথ্যচিত্রের বিষয়বস্তু নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে আয়োজকদের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। ওই সময় ইশরাক হোসেনের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সময় তাঁর স্যালুট দেওয়ার একটি দৃশ্য নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল। এসব ঘটনা আলাদাভাবে মাদকবিরোধী অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত না হলেও তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রেক্ষাপট হিসেবে বিশ্লেষণে এসেছে।

বিএনপি ও সরকারের ভেতরে অস্বস্তি

প্রথম আলোর পৃথক প্রতিবেদনে সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে বলা হয়েছে, ইশরাকের অস্ত্র হাতে অভিযানের ভিডিও প্রকাশের পর দল ও সরকারের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশ্ন ছিল, মাদক দমনে প্রশাসনকে সক্রিয় করার পরিবর্তে একজন প্রতিমন্ত্রী নিজে কেন অস্ত্র হাতে অভিযানে নামলেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি আবাসিক এলাকা পরিদর্শনের দিনে এ ঘটনা সামনে আসে। এতে সরকারের ইতিবাচক কার্যক্রম নিয়ে তৈরি হওয়া আলোচনা আড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন দল ও সরকার-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।

এ ছাড়া ইশরাকের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটিতে তাঁর অবস্থানের কারণে বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একজন বিএনপি নেতা। তবে এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিমত; এগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের ঘোষিত অবস্থান হিসেবে দেখা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে কী বার্তা

প্রথম আলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের নেতা ও সরকারের সদস্যদের আচরণ সম্পর্কে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন। বিশেষ করে ক্ষমতার ব্যবহার, জনসমক্ষে দায়িত্বশীল আচরণ এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জবাবদিহির বিষয়গুলো এ ঘটনায় সামনে এসেছে।

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেছেন, ইশরাকের কর্মকাণ্ডে ক্ষমতার প্রদর্শন ও পরিণতিবোধের অভাবের প্রতিফলন দেখা গেছে এবং এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তাঁর মূল্যায়ন। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে তিনি অন্যদের জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে দেখেছেন।

তবে এটি বিশ্লেষকের মূল্যায়ন। ঘটনার আইনগত দায় নির্ধারণের বিষয়টি পুলিশের তদন্ত ও প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।

এখন নজর পদত্যাগের ঘোষণা ও তদন্তের দিকে

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘোষণা, মন্ত্রিসভা থেকে তাঁর আনুষ্ঠানিক বিদায় এবং অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় পুলিশের তদন্ত—এই তিনটি বিষয় এখন গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযানে তাঁর উত্থাপিত অভিযোগ ও জব্দ করা সামগ্রীর দাবিও যাচাইয়ের বিষয়।

মাদক কারবার দমন জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে আইন, প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে সীমারেখা কোথায়—ইশরাক হোসেনের ঘটনাটি সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো খবর
Sangbadpost © All rights reserved 2026
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )