সংবাদ পোস্ট | জাতীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা জোরদার করতে বাংলাদেশ পুলিশে নতুন করে ২৪ হাজার ৬৭৭টি পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিনের জনবল সংকট মোকাবিলা, অপরাধ দমন এবং মাঠপর্যায়ে পুলিশের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত একটি কমিটির অগ্রগতি প্রতিবেদনে নতুন পদ সৃষ্টির এ পরিকল্পনার তথ্য উঠে এসেছে। প্রস্তাবগুলো এখনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়াধীন; তাই এগুলোকে চূড়ান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
প্রস্তাবিত নতুন পদগুলোর মধ্যে ১০ হাজার কনস্টেবল এবং ৪ হাজার উপপরিদর্শকের (এসআই) পদ রয়েছে। এসব পদ সৃষ্টির প্রস্তাব সচিব কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ছাড়া ৪০০টি সার্জেন্ট এবং ৪৫০টি সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি) পদ সৃষ্টির প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
পুলিশের বিভিন্ন থানা, তদন্তকেন্দ্র, ফাঁড়ি, ক্যাম্প ও অন্যান্য মাঠপর্যায়ের ইউনিটে জনবল বাড়ানোর জন্য আরও পদ সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত পদগুলো বাস্তবায়িত হলে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে জনবল বাড়বে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সক্ষমতা জোরদার হতে পারে।
বাসসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আঞ্চলিক তুলনামূলক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের পুলিশের জনবল প্রয়োজনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। প্রতিবেদনে আনুমানিক ৩ লাখ ৫৪ হাজার ১২৩ জন পুলিশ সদস্যের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের অনুমোদিত পদ রয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৯৩৮টি। পুলিশবহির্ভূত পদসহ মোট অনুমোদিত পদসংখ্যা ২ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯টি।
প্রতিবেদনের হিসাবে, আনুমানিক প্রয়োজনীয় জনবল ও অনুমোদিত পুলিশ পদের মধ্যে ঘাটতি ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৪ জন। তবে প্রয়োজনীয় জনবলের এই হিসাব আঞ্চলিক তুলনার ভিত্তিতে করা হয়েছে; এটি সরাসরি নতুন নিয়োগের সংখ্যা নয়।
জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন থানা, পুলিশ ফাঁড়ি ও তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এ ধরনের ১০৭টি স্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ রয়েছে।
নতুন স্থাপনা চালু হলে সেগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো ও অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ফলে পদ সৃষ্টির প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু অনুমোদন নয়, অর্থ বরাদ্দ ও নিয়োগপ্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগের খবর প্রকাশিত হলেও সব পদে নিয়োগের চূড়ান্ত অনুমোদন বা আবেদন শুরুর কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নিয়োগের পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হতে পারে।
তাই চাকরিপ্রার্থীদের এখনই এটিকে নিশ্চিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মনে করে আবেদন ফি দেওয়া বা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চাকরি নিশ্চিত করার প্রলোভনে পড়া উচিত নয়। কনস্টেবল, এসআই, সার্জেন্ট বা এএসপি পদে নিয়োগের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা, শারীরিক যোগ্যতা এবং আবেদনপদ্ধতি বিস্তারিত জানা যাবে।
পুলিশের জনবল বাড়ানোর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ তদন্ত এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে প্রস্তাবিত পদগুলো অনুমোদন ও নিয়োগের মাধ্যমে বাস্তবে কার্যকর করাই এখন প্রধান বিষয়।
মূল প্রতিবেদন: বাসস—পুলিশে ২৪ হাজার ৬৭৭টি নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ