সংবাদ পোস্ট | খেলাধুলা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ব্যাটারদের ব্যর্থতা, জুটি গড়তে না পারা এবং চাপের মুখে ভুল সিদ্ধান্তকে এই পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। তাঁর মতে, জিম্বাবুয়ের দেওয়া লক্ষ্যটি বাংলাদেশের ব্যাটারদের তাড়া করে জয় পাওয়ার মতোই ছিল।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানে। ফলে ৯৯ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জিম্বাবুয়ে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন জানান, ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করার যথেষ্ট সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু ব্যাটিংয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি দল।
তাসকিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ব্যাটাররা যদি অন্তত একটি কার্যকর জুটি গড়তে পারতেন, তাহলে ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারত। কিন্তু বারবার উইকেট হারানোর কারণে দল বড় জুটি গড়তে ব্যর্থ হয়।
তিনি মনে করেন, শুধু ব্যক্তিগত দক্ষতা থাকলেই ভালো দল হওয়া যায় না; ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং চাপের মধ্যে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়েকে শুরুতেই চাপে ফেলেন তাসকিন আহমেদ। তাঁর বোলিংয়ে মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে দলটি।
তবে সেখান থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে। ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিন চতুর্থ উইকেটে ১৫০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের ইনিংস শক্তিশালী করেন।
টেলর ১০১ বলে ৮১ রান করেন। অন্যদিকে আরভিনের ব্যাট থেকে আসে ১০৬ বলে ৯৩ রান। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৭১ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ৪৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। শুরুতে তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও সতীর্থদের ব্যাটিং ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।
২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা মন্দ করেনি বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তামিম ৪৭ রান যোগ করেন। তানজিদ ৩৮ বলে ৪৬ রান করে দলের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হন।
কিন্তু তাঁর বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। ব্যাটারদের কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। মাঝের ওভারগুলোতে রান তোলার গতি কমে যায়, পাশাপাশি ভুল শট নির্বাচনের কারণে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারায় দল।
সাইফ হাসান ২৬ এবং রিশাদ হোসেন ২৩ রান করেন। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেনের ছোট একটি জুটি গড়ে উঠলেও তা পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ব্র্যাড ইভান্স ৪৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। তাঁর বোলিংয়েই বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ আরও চাপে পড়ে।
তাসকিনের মতে, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সামর্থ্যের অভাব নেই। কিন্তু সামর্থ্য অনুযায়ী ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করতে না পারা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দ্রুত উইকেট হারানো দলের বড় সমস্যা।
তিনি মনে করেন, ভালো দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হলে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা বাড়ানোর পাশাপাশি ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলার মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে।
এই পরাজয়ে বাংলাদেশের নেট রান রেটও কমে গেছে। ফলে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলো দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে। এর আগে ১৯ অক্টোবর মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। সিরিজের ফাইনাল নির্ধারিত রয়েছে ২৩ অক্টোবর।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় পরাজয়ের পর বাংলাদেশের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। ব্যাটিংয়ের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে পরের ম্যাচে জয় পেতে না পারলে ফাইনালে ওঠার পথ আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।
তথ্যসূত্র: The Daily Star, Crickbuzz.