আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে দুর্দান্ত বোলিং করে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়েছেন তিনি। তাঁর বিধ্বংসী বোলিংয়ে আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে। শেষ পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান। এতে ১০৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় বাংলাদেশ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত এই টেস্টের তৃতীয় দিনে হাসানের অসাধারণ পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করে। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে টানা তিন বলে তিন ব্যাটারকে ফিরিয়ে তিনি শুধু দলের অবস্থান শক্ত করেননি, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেও নিজের নাম লিখিয়েছেন।
আফগানিস্তানের ইনিংসের ৮৩তম ওভারে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হাসান মাহমুদ। প্রথম বলে ইসমত আলমকে বোল্ড করেন তিনি। পরের বলে কায়েস আহমদকে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন। এরপর জিয়া-উর-রহমানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই ডানহাতি পেসার।
তৃতীয় উইকেটের সিদ্ধান্ত পেতে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত রিভিউ নেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি স্টাম্পে আঘাত করত। ফলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলে আউট হন জিয়া-উর-রহমান।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেন হাসান। এর আগে আলোক কাপালি ও সোহাগ গাজী টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। তবে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক করা প্রথম পেসার হলেন হাসান মাহমুদ।
আফগানিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়ে হাসান মাহমুদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ইবাদত হোসেন। হাসান পাঁচ উইকেট শিকার করেন, আর ইবাদত তুলে নেন চার উইকেট। দুই পেসারের ধারাবাহিক আক্রমণে আফগানিস্তানের ব্যাটাররা বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হন।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ২১১ রান। সেখান থেকে তৃতীয় দিনে বাকি ছয় উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৯ রান যোগ করতে পারে দলটি। ফলে ২৪০ রানেই শেষ হয় তাদের প্রথম ইনিংস।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করেছিল। সেই হিসাবে ১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ পায় টাইগাররা।
আফগানিস্তানের হয়ে ব্যাট হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন অধিনায়ক রহমত শাহ। সতীর্থদের একের পর এক বিদায়ের মধ্যেও তিনি লড়াই চালিয়ে যান। তাঁর ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ১০৫ রান। ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও দুটি ছক্কা।
রহমতের এই সেঞ্চুরি আফগানিস্তানকে বড় বিপর্যয় থেকে কিছুটা রক্ষা করলেও দলকে বাংলাদেশের সংগ্রহের কাছাকাছি নিতে পারেনি। অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত একাই লড়াই করতে হয় তাঁকে।
প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পাওয়ায় ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে আসে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও রান যোগ করে আফগানিস্তানের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড় করানোই এখন দলের প্রধান কাজ।
টেস্ট ক্রিকেটে শুধু বড় রান করাই নয়, প্রতিপক্ষের ওপর ধারাবাহিক চাপ ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। হাসান মাহমুদ ও ইবাদত হোসেনের বোলিং সেই চাপ তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে ম্যাচের চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস এবং পরবর্তী সময়ে আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ের ওপর।
হাসানের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের সক্ষমতারও একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। তাঁর এই সাফল্য ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে আরও ভালো পারফরম্যান্সের জন্য আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে আশা করা যায়।
সূত্র: বিডিনিউজ২৪, ইউএনবি ও জাগো নিউজ২৪।
সম্পাদনা: সংবাদ পোস্ট ক্রীড়া ডেস্ক