সংবাদ পোস্ট | নিজস্ব প্রতিবেদক
শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা নিয়ে শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ। শনিবার (১০ অক্টোবর) মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আগমনের প্রতীক্ষা শুরু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও পূজামণ্ডপে বেড়েছে উৎসবের ব্যস্ততা। কোথাও প্রতিমায় শেষ তুলির আঁচড়, কোথাও চলছে মণ্ডপ সাজানো, আবার কোথাও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
এবার ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৭ অক্টোবর সপ্তমী, ১৯ অক্টোবর অষ্টমী, ২০ অক্টোবর নবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
মহালয়ার মধ্য দিয়ে পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনা হয়। চণ্ডীপাঠ, দেবীর স্তব এবং আগমনী সংগীতের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে আবাহন করেন। এ দিন থেকেই শুরু হয় দেবীর আগমনের অপেক্ষা।
পূজার দিন ঘনিয়ে আসায় প্রতিমাশিল্পীদের ব্যস্ততা বেড়েছে। পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা নির্মাণ, রং করা ও অলংকরণের কাজ চলছে। আয়োজকেরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করতে দিন-রাত কাজ করছেন।
তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বৃদ্ধি এবং শ্রমিকসংকটের কারণে কিছু কারিগরকে বাড়তি চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, পূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বাজারে পোশাক ও পূজাসামগ্রী কেনাকাটার প্রস্তুতিও চলছে।
এ বছর সিলেট বিভাগের চার জেলায় মোট ২ হাজার ৭৬৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সিলেট জেলা ও মহানগরে ৬৩৬টি, মৌলভীবাজারে ১ হাজার ২২টি, হবিগঞ্জে ৬৬৪টি এবং সুনামগঞ্জে ৪৪৪টি মণ্ডপ রয়েছে।
মৌলভীবাজারে সবচেয়ে বেশি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি, সাজসজ্জা এবং আলোকসজ্জার কাজ চলছে। আয়োজকেরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করছেন।
উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। রাজধানীতে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তা যাচাই না করে প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো সন্দেহজনক ঘটনা চোখে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বাঙালির সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পূজামণ্ডপগুলোতে ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, সবার সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসব আনন্দমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদ্যাপিত হবে।