আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের মুদ্রা রিয়ালের দরপতন আরও তীব্র হয়েছে। দেশটির মুক্তবাজারে মার্কিন ডলারের দাম ২৭ লাখ রিয়াল ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এতে দেশটির অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) স্থানীয় বাজারে এক মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্য প্রায় ২৭ লাখ ২৩ হাজার রিয়ালে পৌঁছায়। এর আগের দিনও ডলারের দাম ছিল প্রায় ২৬ লাখ ৮৮ হাজার রিয়াল। অর্থাৎ মাত্র এক দিনের ব্যবধানেই ডলারের বিপরীতে রিয়ালের আরও বড় অবমূল্যায়ন হয়েছে।
ইরানি মুদ্রার এই পতন দীর্ঘদিন ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে। নিষেধাজ্ঞা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে দেশটির অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে চাপের মধ্যে রয়েছে।

A shopkeeper holds Iranian rials at a local market in Tehran, Iran, 26 September 2026. Photo: REUTERS
রিয়ালের দরপতনের ফলে আমদানি করা পণ্য, খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় মুদ্রায় সঞ্চয় রাখা মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে অনেক মানুষ নিজেদের সঞ্চয় ডলার, স্বর্ণ বা অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল সম্পদে রূপান্তরের চেষ্টা করছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলার সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বাজারে তারল্য ও ডলারের জোগান বাড়িয়ে রিয়ালের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু বাজারে ডলার ছাড়লেই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সমাধান হবে না। ইরানের অর্থনীতিতে বৈদেশিক বাণিজ্য, নিষেধাজ্ঞা, মুদ্রাস্ফীতি ও আস্থার সংকট—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে কাজ করছে।
রিয়ালের এই নতুন দরপতন ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার মূল্য আরও কমলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও চাপ আরও তীব্র হতে পারে।