যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর মতে, শুধু শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনা নয়, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে সরকার।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘খেলাধুলা’ নামের নতুন বই পড়বে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন খেলার নিয়ম, উপকারিতা এবং শারীরিক চর্চার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হবে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার অভ্যাস গড়ে উঠলে শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি দলগত কাজ, নেতৃত্ব, নিয়ম মেনে চলা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতাও বিকশিত হয়।
শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে খেলাধুলাকে সীমাবদ্ধ না রেখে বিদ্যালয়গুলোতে বছরজুড়ে বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত মাঠে খেলাধুলার সুযোগ পাবে এবং তাদের অবসর সময় আরও ইতিবাচক কাজে ব্যয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এ উদ্যোগ সফল করতে বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের যেসব বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত মাঠ নেই, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন হতে পারে।
বর্তমানে শিশুদের একটি বড় অংশ দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসে ব্যয় করে। নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো গেলে তাদের শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়তে পারে এবং প্রযুক্তিনির্ভর অবসরযাপনের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলা, ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি হয়। পাশাপাশি সহপাঠীদের সঙ্গে মেলামেশা ও দলগত কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক দক্ষতাও বৃদ্ধি পায়।
শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বই চালুর পাশাপাশি বাস্তবে খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা না থাকলে উদ্যোগটির পূর্ণ সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন পাঠ্যবই ও বছরব্যাপী ক্রীড়া কার্যক্রমের সমন্বয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় খেলাধুলার চর্চা বাড়বে। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য, মানসিক বিকাশ এবং ইতিবাচক জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।