হাফপ্যান্ট পরায় মেট্রোস্টেশনে অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ
সংবাদ পোস্ট
-
প্রকাশ কাল:
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
-
৩
জন দেখেছেন
শরীরচর্চা শেষে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন। রোববার সকালে রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সাজ্জাদ হোসেন প্রায় ১০ বছর ধরে ম্যারাথন ও আল্ট্রাম্যারাথনের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। নিয়মিত দৌড়ানোর পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন পার্কে ভোরে প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকেন তিনি।
সাজ্জাদের অভিযোগ, সকালে রমনায় প্রশিক্ষণ শেষে একটি কাজে ফার্মেটে যান তিনি। পরে বিজয় সরণি যাওয়ার জন্য ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে প্রবেশের সময় দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্য তাঁকে থামান। তাঁর পোশাককে ‘অশালীন’ উল্লেখ করে মেট্রোতে প্রবেশে আপত্তি জানান ওই পুলিশ সদস্য।
এ সময় সাজ্জাদ নিজেকে একজন রানিং কোচ হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানান, শরীরচর্চা ও প্রশিক্ষণ শেষে তিনি মেট্রোরেলে করে পরবর্তী গন্তব্যে যাচ্ছেন। মেট্রোরেলে হাফপ্যান্ট পরা নিষিদ্ধ—এমন কোনো লিখিত নিয়ম থাকলে তা দেখানোর অনুরোধও করেন তিনি।
সাজ্জাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে থাকা আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যও তাঁর পোশাক নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁকে ট্রাউজার পরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ কারণে টিকিট পাঞ্চ মেশিনের সামনে তাঁকে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার একটি ভিডিও পরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন সাজ্জাদ। ভিডিওতে ‘জাকির’ নামের নেমপ্লেটধারী এক পুলিশ সদস্যকে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। পোশাকের কোন অংশ শালীন বা অশালীন—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই পুলিশ সদস্যকে বলতে শোনা যায়, বিষয়টি দেখা তাঁর দায়িত্ব।
মেট্রোরেলে কোনো ড্রেস কোড নেই
ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে মেট্রোরেলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মেট্রোরেলে যাত্রীদের চলাচলের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ড্রেস কোড নেই। তবে ঘটনাটি কেন ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
সাজ্জাদ আরও অভিযোগ করেন, মেট্রোরেলের কন্ট্রোল বোর্ডের একজন নারী কর্মকর্তাও তাঁর পোশাক নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং তাঁর ছবি তুলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পর তাঁকে মেট্রোরেলে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়।
ঘটনার পর ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান সাজ্জাদ। তবে অভিযোগের কোনো কপি তাঁকে দেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁর।
সাজ্জাদের বক্তব্য, একজন মানুষ শরীরচর্চা বা দৌড়ানোর পর স্বাভাবিকভাবেই স্পোর্টস পোশাক পরে থাকতে পারেন। মেট্রোরেলে হাফপ্যান্ট পরা নিষিদ্ধ হলে সে বিষয়ে স্পষ্ট লিখিত নিয়ম থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, পুলিশের আচরণ নিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে অন্যায় আচরণ হলে পুলিশের দায়িত্ব তাঁকে সুরক্ষা দেওয়া; পুলিশ সদস্যের আচরণ নিয়েই যদি অভিযোগ ওঠে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
এ বিভাগের আরো খবর