একটি শিশুর কান্না থেমে গেলে কি সমাজ নড়ে ওঠে, নাকি আরও কয়েকটি ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত অপেক্ষা করে? আছিয়া, ইরা, রামিসা—তিনটি আলাদা ঘটনা, তিনটি সময়, কিন্তু প্রশ্ন একটাই: শিশুর নিরাপত্তা কি নিশ্চিত হচ্ছে?
২০২৫ সালের ৫ মার্চ, মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে ঘটে আছিয়ার ঘটনা। আট বছরের শিশুটি বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। পরে তার মৃত্যু ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে বিভিন্ন মহলে।
মামলার বিচারিক পর্যায়ে প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড হলেও এখনো রায় কার্যকর হয়নি বলে জানা যায়। আপিল প্রক্রিয়ার কারণে মামলাটি এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। এ অবস্থায় আছিয়ার পরিবার এখনো বিচারপ্রক্রিয়ার সমাপ্তি দেখতে চায়।
এরপর আসে আরেকটি ঘটনা। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সাত বছরের শিশু ইরা নির্জন এলাকায় গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের বরাতে জানা যায়, শিশুটি সহিংসতার শিকার হয়েছিল।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে এবং সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। প্রশ্ন ওঠে, শিশু কীভাবে এমন পরিস্থিতির শিকার হলো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি ছিল।
সবশেষে, ২০২৬ সালের ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে ঘটে রামিসার ঘটনা। দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। পরে একই দিনে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানায়।
একই ধরনের ঘটনায় ধারাবাহিকভাবে শিশুদের মৃত্যু ও নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু আইন থাকা যথেষ্ট নয়, তার দ্রুত ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। দীর্ঘসূত্রতা বিচারপ্রক্রিয়ায় আস্থা কমিয়ে দেয় এবং অপরাধ দমনে প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে পরিবার ও সমাজ পর্যায়ে সচেতনতার বিষয়টিও সামনে আসছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়েও নজরদারি বাড়ানোর কথা বলছেন অনেকে।
আছিয়া, ইরা, রামিসা—তাদের নাম এখন ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। কিন্তু প্রতিটি ঘটনার পর একই প্রশ্ন ফিরে আসছে, শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ কি নিশ্চিত করা যাচ্ছে?