রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সে ‘মা’ সিনেমার একটি বিশেষ প্রদর্শনীতে গিয়েছিলেন পরীমনি। প্রদর্শনী শেষে বের হওয়ার সময় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবাররা পরীমনির পথ আটকে ধরেন। এসময় লাইট ক্যামেরার প্রচণ্ড শোরগোলে ভয় পেয়ে যায় পরীমনি-শরীফুল রাজের সন্তান রাজ্য।
এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ফেসবুকে পরীমনি বলেন, ‘‘আজ আমি একসাথে অনেক কষ্ট আর অনেক আনন্দ নিয়ে বাসায় ফিরলাম ‘মা’সিনেমা দেখতে গিয়ে! কষ্ট পেয়েছি কারণ, আমার বাচ্চাটা অনেক ভয় পেয়েছে।
রাজ্য যখন অনেক ছোট তখন থেকেই আমি ওকে নিয়ে হলে গিয়ে ছবি দেখেছি অনেক বার। শো শেষে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছি সবসময় সুন্দর শৃঙ্খলা পরিবেশে। কিন্তু আজকে এমন উছশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি করলো কেউ কেউ তাতে বাজে ভাবে আমার বাচ্চাটা ভয় পেলো।’’
ক্যামেরা পরীমনিকে আটকে দেয়, অনুরোধ সত্ত্বেও পথ ছাড়েনি তারা।
পরীমনি বলেন, ‘কতো কাছের মানুষজনকে দাওয়াত করে একটা হ্যালোও করতে পারি নাই তাদের সাথে আমি! অথচ আমি আপনাদের সবার সাথে সিনেমা দেখবো, কথা বলবো বলেই তো গিয়েছিলাম। হল থেকে বেরোনোর সিঁড়িটার মুখে এতো এতো ক্যামেরা আর লাইট দিয়ে আটকে রাখলেন কেউ কেউ। আমি বার বার রিকোয়েস্ট করলাম বের হওয়ার পথটা ছেড়ে দেয়ার জন্যে।’
পুরো বিষয়টায় সফনশীল থাকা যেত উল্লেখ করে পরীমনি বলেন, আপনাদের মধ্যে অনেকেই বলছিলো আমাকে পথ ছেড়ে দিয়ে লবিতে ক্যামেরা সেট করার জন্যে।
এই নিয়ে আপনারা নিজেদের মধ্যে ঝামেলা শুরু করলেন যেটাতে বাচ্চাটা ভয় পেয়ে গেলো। আপনারা বাচ্চাটার জন্যে একটু সহনশীল হতে পারতেন। কেন যে এমন করলেন! আর খুশি এই জন্যে যে,আপনাদের মধ্যেই কত মানুষ আমাকে মন থেকেই কত ভালোবাসেন,কেয়ার করেন। থ্যাংকইউ।’
বুধবার সন্ধ্যায় পরীমনি ইউটিউবারদের দ্বারা রীতিমতো হেনস্থার স্বীকার হয়েছেন, এই ঘটনার বিশদ নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেছেন কণ্ঠশিল্পী ও কথাসাহিত্যিক লুৎফর হাসান।
ঘুড়ি খ্যাত এই গায়ক বলেন, সিনেমা চলাকালেই এক ঝাঁক ইউটিউবার এসে তাকে ঘিরে ধরলো। ইউটিউবার এজন্য বলছি, সাংবাদিকদের সবাইকে তো চিনি। সাংবাদিকেরা ভীষণ বিব্রত ও অস্বস্তিতে পড়ে গেলেন। ইউটিউবারদের মধ্যে একজনও মূল ধারার সাংবাদিক ছিল না। তারা এমন ভাব দেখাচ্ছিল যে, পরী মণি তাদের পরিচিত, এটা তারা বুঝাতে চাইছিল।’
শিশু রাজ্যের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, ‘তারা ছোট্ট শিশুটার চোখেমুখে ফ্ল্যাশের পর ফ্ল্যাশ ফেলার আগে একবারও ভাবলো না, বাচ্চাটা একেবারেই অবুঝ। এইসব উপুর্যুপরি লাইটে বাচ্চাটা ভয় পাচ্ছে। তাদের দরকার কনটেন্ট। পরী যতক্ষণ ছিলেন, ইউটিউবারেরা যা করলো, সেটা চূড়ান্ত বিভীষিকা। অনেকবার মনে হচ্ছিল, বেরিয়ে যাই। কিন্তু সিনেমাটা দেখেই যাব বলে, চুপ করে ‘খিঁচ মেরে’ বসে রইলাম। সিনেমা শেষে লাইট জ্বলে উঠতেই যে ভয়াবহ দৃশ্য, এরকম বিভীষিকার অভিজ্ঞতা আমার নাই বললেই চলে। যাহোক, পরীমনি চলে গেলেন নিজের বাচ্চাকে এদের হাত থেকে পরিত্রাণের জন্য। একজন মা হিসেবে নিশ্চয়ই তিনি বুঝতে পেরেছেন, এই তথাকথিত মানুষগুলো কোনও বাচ্চার সমস্যা বুঝতে পারবে না।’
ফেসবুক হ্যান্ডেলে লুৎফর হাসান বলেন, ‘পরী চলে যাবার পর আমি সেই ইউটিউবারদের দেখলাম মনোযোগে। কী অদ্ভুত! অবিকল মানুষের মতো দেখতে। অথচ তারা মানুষের পর্যায়ে পড়ে না। যাহোক, পরীর জন্য শুভকামনা। আশা রাখি তিনি এরপর কোথাও গেলে নিজের সন্তানকে এইসব কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের হাত থেকে নিরাপদে রাখবেন।’