ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও কাশিমপুর কারাগারে চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনে অন্তত ১০ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। বন্দিদের অধিকাংশকেই অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কিংবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যেতে দেখে বন্দিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মৌলিক মানবাধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
মৃতদের মধ্যে ৩ জনের বয়স ৪৫ বছরের নিচে হওয়ায় কারা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার কার্যকারিতা ও জরুরি সেবা প্রদানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কারা বিধিমালা ও বাংলাদেশ জেল কোডের সুনির্দিষ্ট আইনি বিধান অনুযায়ী বন্দিদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নাগরিক হিসেবে কারাবন্দিদের মৌলিক অধিকার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে তদারকি বহাল রাখা আবশ্যক।
কারা অধিদপ্তর এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কারাবন্দিদের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও স্থানান্তরের তদারকি পরিচালনা করে আসছে। বন্দিদের চিকিৎসায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং চিকিৎসকের সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জারি রাখা রয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি এবং চিকিৎসাসেবা ও খাবারের মানে ঘাটতি থাকায় কারাবন্দিদের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ জানান, “অসুস্থ দুই হাজতিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢামেকে তাদের মৃত্যু হয়।”
স্বল্প সময়ে এত বন্দির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠন ও কারা হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগের জোরালো দাবি জানিয়েছে সচেতন সমাজ।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন করে যেন এমন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য কেন্দ্রীয় কারাগারগুলোতে প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।