ক্যাটাগরি: খেলাধুলা / ক্রিকেট
প্রকাশের তারিখ: ২১ অক্টোবর ২০২৬
শারজাহ: সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান তিন জাতির ওয়ানডে সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (২১ অক্টোবর) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪১.২ ওভারে ১৬০ রান করে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭০ রান করেছেন পারভেজ হোসেন ইমন। আফগানিস্তানের লেগ স্পিনার রশিদ খান ৩১ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট।
সিরিজের ফাইনালে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারের পর ফাইনালে যাওয়ার সমীকরণ কঠিন হয়ে পড়েছিল দলের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জেতার প্রয়োজন থাকলেও ব্যাটিংয়ে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তবে ইনিংসের শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে দল।
আফগান পেসার ইয়ামিন আহমদজাইয়ের দ্বিতীয় ওভারে তানজিদ হাসান তামিম ১ রান করে আউট হন। পরের বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন সৌম্য সরকার, যিনি কোনো রান করতে পারেননি।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ১৫ রান করে আউট হন। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি; কোনো রান না করেই আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
ফলে সপ্তম ওভারের মধ্যেই ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
দলের এমন বিপর্যয়ের মধ্যে হাল ধরেন পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। দুজন মিলে পঞ্চম উইকেটে ৯৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। তাঁদের ব্যাটিংয়ে একপর্যায়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা তৈরি হয়।
সাইফ হাসান ৮২ বলে ৪১ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা। অন্যদিকে পারভেজ হোসেন ইমন ৯৬ বলে ৭০ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হন। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা।
পারভেজ ৭৪ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তবে সাইফ আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের ব্যাটিং আবারও ভেঙে পড়ে। মোহাম্মদ নবীর বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন সাইফ। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ মাত্র ২ রান করে ফিরে যান।
বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ দিকে কার্যকর হয়ে ওঠেন রশিদ খান। তিনি একে একে শরীফুল ইসলাম, পারভেজ হোসেন ইমন, আলিস আল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমানকে আউট করেন।
শরীফুল করেন ৭ রান। ৭০ রান করা পারভেজ এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন। এরপর আলিস কোনো রান না করে আউট হন এবং মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম বলেই বোল্ড হন।
শেষ পাঁচ উইকেটে মাত্র ৩৯ রান যোগ করতে পারে বাংলাদেশ। ফলে ৫০ ওভার শেষ হওয়ার আগেই ৪১.২ ওভারে ১৬০ রানে অলআউট হয় দল।
আফগানিস্তানের হয়ে রশিদ খানের পাশাপাশি আজমতউল্লাহ ওমরজাই দুটি এবং ইয়ামিন আহমদজাই দুটি উইকেট নেন। বিলাল সামি পান একটি উইকেট।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ৯৯ রানে হারের কারণে বাংলাদেশের নেট রান রেট পিছিয়ে ছিল। তাই আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুধু জয় নয়, বড় ব্যবধানে জয়ও প্রয়োজন ছিল।
ম্যাচের আগে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ফাইনালে ওঠার আশা ধরে রাখতে বাংলাদেশকে আফগানিস্তানকে অন্তত ৪১ রানে হারাতে হতো। কিন্তু ১৬০ রানের পুঁজি নিয়ে সেই সমীকরণ পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রতিবেদন তৈরির সময় পাওয়া স্কোর আপডেট অনুযায়ী, বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হওয়ার পর আফগানিস্তানের রান তাড়া শুরু হয়েছিল। তবে ম্যাচের চূড়ান্ত ফল নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি। তাই আফগানিস্তানের জয় বা বাংলাদেশের বিদায়কে চূড়ান্ত ফল হিসেবে এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে না।
তিন জাতির ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে অংশ নিচ্ছে। সূচি অনুযায়ী, সিরিজের ফাইনাল হওয়ার কথা ২৩ অক্টোবর। ফাইনালে উঠবে গ্রুপপর্বের শীর্ষ দুই দল।
বাংলাদেশের জন্য আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল নিজেদের অবস্থান উন্নত করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। কিন্তু ব্যাটিংয়ের শুরুতে দ্রুত উইকেট হারানো এবং শেষ দিকে ধারাবাহিকভাবে উইকেট পড়ায় দল বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি।
পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসানের লড়াই সত্ত্বেও বাংলাদেশের ইনিংস ১৬০ রানে শেষ হয়। ম্যাচের পরবর্তী ফল এবং সিরিজের চূড়ান্ত সমীকরণ নির্ধারিত হবে আফগানিস্তানের রান তাড়া ও ম্যাচের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের পর।
সূত্র: প্রথম আলো, ২১ অক্টোবর ২০২৬; বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস); জাগো নিউজ।
সংবাদ পোস্ট | নিরপেক্ষ সংবাদ, নির্ভরযোগ্য তথ্য।