সংবাদ পোস্ট |জাতীয় / কূটনীতি / অর্থনীতি ও জ্বালানি |
এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা; জ্বালানি খাতে প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় ও প্রশিক্ষণেও সহযোগিতা বাড়াতে চায় দুই দেশ
ঢাকা: জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়া। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে আলজেরিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সিফি ঘরিবের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি এ বৈঠকে অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং আলজেরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতও উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, এই সমঝোতার ফলে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ব্যবস্থায় আলজেরিয়া থেকে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমদানির উৎস বহুমুখী করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আলজেরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়লে ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প উৎস তৈরির সুযোগ হতে পারে।
তবে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের অর্থ এই নয় যে, ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি আমদানির চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। আমদানির পরিমাণ, মূল্য, সরবরাহের সময়সূচি কিংবা প্রথম চালান আসার তারিখ সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, সার, শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
তিনি উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে জ্বালানি খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি জ্বালানি খাতের প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য জ্ঞান বিনিময় এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়ে আলজেরিয়ার সহযোগিতা চান।
এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সমঝোতা স্মারকের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে শুধু জ্বালানি আমদানিই নয়, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়ও রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, এ উদ্যোগ বাংলাদেশের এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কয়লা ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে উন্নত পদ্ধতি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে সংশ্লিষ্ট খাতের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা পাওয়া সম্ভব। তবে এসব ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা কীভাবে এবং কোন সময়সীমার মধ্যে কার্যকর হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার বিদ্যমান সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী সিফি ঘরিব জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করাকে তাঁর সরকার গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় হলে অর্থনীতি, জ্বালানি, কৃষি এবং প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হতে পারে।
বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমদানিনির্ভর সরবরাহের পাশাপাশি বিকল্প উৎসের সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। আলজেরিয়ার সঙ্গে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক সেই সম্ভাবনার একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
তবে এই উদ্যোগের প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে ভবিষ্যতে কী ধরনের বাণিজ্যিক চুক্তি হয়, আমদানির শর্ত কী নির্ধারিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো কতটা বাস্তবায়িত হয় তার ওপর।
এখন দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে জ্বালানি বাণিজ্য, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
সূত্র: প্রথম আলো,
সহায়ক সূত্র: