কক্সবাজারের হিমছড়ি সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে প্রাণ হারিয়েছেন তিন পর্যটক। এ ঘটনায় আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। একজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
কক্সবাজারের হিমছড়ি সমুদ্রসৈকতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন হিমছড়ি মেরিনা রিসোর্টের জাদুঘর-সংলগ্ন সৈকতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাগরে গোসল করতে নামার পর প্রবল ঢেউ ও স্রোতের টানে কয়েকজন পর্যটক পানিতে তলিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন ও উদ্ধারকর্মীরা তাঁদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেন। এ ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয় এবং আরও দুজন নিখোঁজ হন। একজনকে জীবিত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা থেকে আসা ১২ জনের একটি পর্যটক দলের পাঁচজন সাগরে গোসল করতে নেমেছিলেন। এ সময় বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় তাঁরা পানিতে তলিয়ে যান। পরে উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে তিনজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি এবং দুজন নিখোঁজ থাকেন।
প্রথম আলোর পরবর্তী প্রতিবেদনে নিহত তিন পর্যটকের নাম মো. বোরহান (২৩), সাইফুল ইসলাম (২৩) ও নাফিসুল হক (২২) বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বাড়ি ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায়।
দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, লাইফগার্ড, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকর্মীরা তল্লাশি চালান। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত নিখোঁজ দুজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেসরকারি লাইফগার্ড প্রতিষ্ঠান সি-সেফের আঞ্চলিক পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদের বরাত দিয়ে প্রথম আলো জানিয়েছে, কক্সবাজার সৈকতের কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় সি-সেফের ২৭ জন লাইফগার্ড কর্মী দায়িত্ব পালন করেন। তবে হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানীসহ বিস্তীর্ণ সৈকতের সব এলাকায় পর্যাপ্ত উদ্ধারকর্মী না থাকায় উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
সমুদ্রসৈকতে গোসলের সময় প্রবল ঢেউ, স্রোত ও পানির নিচে তৈরি হওয়া গুপ্তখাল পর্যটকদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই সৈকতে লাল নিশানা বা সতর্কসংকেত দেওয়া থাকলে সেখানে পানিতে নামা থেকে বিরত থাকা জরুরি। পাশাপাশি লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত নিরাপদ এলাকায় গোসল করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
হিমছড়ির এ দুর্ঘটনা আবারও সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
সূত্র: দৈনিক সকালবেলা, প্রথম আলো ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।