ঢাকা: ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে পুনরায় প্রজ্ঞাপন প্রকাশের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। একই দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী মোহাম্মদ হাবিবুল ইসলাম।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ কর্মসূচি পালন করেন গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ নিয়োগপ্রক্রিয়ার সব ধাপ শেষ করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ পাওয়ার পরও কেন তাঁদের নাম চূড়ান্ত গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তা স্পষ্ট করতে হবে।
প্রথম আলোর আজকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাবিবুল ইসলাম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ৪৫তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও গত ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত চূড়ান্ত নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে তাঁর নাম আসেনি। এ ঘটনায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়ে তিনি গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
হাবিবুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে বিসিএসের প্রস্তুতি ও নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করার পরও চূড়ান্ত গেজেটে নাম না থাকায় তিনি হতাশায় পড়েছেন। তাঁর দাবি, কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বা ফৌজদারি মামলায় জড়িত না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তিনি সরকারের কাছে জানতে চান, কোন মানদণ্ডে তাঁকে চূড়ান্ত গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার কারণ জানানো এবং তাঁদের আবেদন নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
তবে গেজেটে নাম না থাকার পেছনে হাবিবুল ইসলামের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ১৪ অক্টোবর ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট প্রকাশ করে। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৭০২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ এর আগে পিএসসি ১ হাজার ৮০৭ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল।
অর্থাৎ সুপারিশপ্রাপ্তদের তালিকা থেকে ১০৫ জনের নাম চূড়ান্ত গেজেটে আসেনি। প্রথম আলোর আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে ৪৯ জন শারীরিক পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রমে অংশ নেননি। বাকি ৫৬ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের একটি অংশ দাবি করছেন, তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা অপরাধের অভিযোগ নেই। তারপরও তাঁদের নাম বাদ পড়ার কারণ স্পষ্ট না হওয়ায় তাঁরা পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছেন।
এর আগে গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের একটি দল জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ও আবেদন পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়।
প্রার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের কারও সঙ্গে অন্যায় হয়ে থাকলে বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে আজকের কর্মসূচির পর তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে নতুন গেজেট প্রকাশের বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কোনো নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীরা বলছেন, দীর্ঘ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও সুপারিশের পর নিয়োগের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে বাদ পড়ার কারণ তাঁদের জানানো প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে যাচাই করা হোক এবং প্রত্যেকের বিষয়ে স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।
তাঁরা চান, বাদ পড়া প্রার্থীদের আবেদন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পুনরায় পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। বিশেষ করে যাঁরা নিজেদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই বলে দাবি করছেন, তাঁদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
৪৫তম বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের নভেম্বরে। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ২০২৫ সালের নভেম্বরে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে পিএসসি। এরপর প্রায় ১১ মাস পর ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট প্রকাশিত হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের একাংশের নাম গেজেটে না আসায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এখন তাঁদের আবেদনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং বাদ পড়া প্রার্থীদের অভিযোগের ব্যাখ্যা কীভাবে দেওয়া হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: প্রথম আলো