সংবাদ পোস্ট | জাতীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের তথ্য কমিশনের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান। তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাঁকে এ পদে নিয়োগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দুই সাংবাদিক এস. এ. এম. মাহফুজুর রহমান ও খান মোহাম্মদ আবুল হোসেনকে তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়। পরদিন সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নবনিযুক্ত প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুই কমিশনার।
নিয়োগের পর অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান জানান, তথ্য কমিশন কোনো সরকার বা বিশেষ ব্যক্তির স্বার্থে নয়, বরং জনগণের জন্য কাজ করবে। তথ্য পাওয়ার অধিকার বাস্তবায়নে কমিশনের দরজা দেশের সব মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
১৮ অক্টোবর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তথ্য কমিশনের কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে আরও পরিচিত করা এবং মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছানোর পথ সহজ করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে লিঙ্গপরিচয়ের চেয়ে দায়িত্বই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের সব লিঙ্গের মানুষের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
নবনিযুক্ত প্রধান তথ্য কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সক্রিয় করা এবং জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী, নাগরিকরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সরকারি ও আইন দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাইতে পারেন। কোনো ক্ষেত্রে তথ্য না পাওয়া বা আইন অনুযায়ী তথ্যপ্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি হলে নির্ধারিত বিধি মেনে অভিযোগ ও আপিলের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তথ্য কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর প্রয়োগ সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে কমিশনের স্বাধীনতা, পর্যাপ্ত সক্ষমতা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
ড. নাহরিন ইসলাম খান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক। তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে জার্মানির ফিলিপস ইউনিভার্সিটি অব মারবুর্গ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
এ ছাড়া জার্মানির ফ্রেইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশনীতি ও পরিবেশগত বিরোধ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আরেকটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। অস্ট্রিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস, ভিয়েনা (বোকু) থেকে জেন্ডার স্টাডিজে ডিপ্লোমাও রয়েছে তাঁর।
নতুন তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক এস. এ. এম. মাহফুজুর রহমান ও খান মোহাম্মদ আবুল হোসেন। মাহফুজুর রহমান আগে ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নিয়োগের আগে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার হিসেবে কাজ করছিলেন। খান মোহাম্মদ আবুল হোসেন দৈনিক দিনকালের সহকারী সম্পাদক।
তথ্য কমিশনের নতুন নেতৃত্বের সামনে এখন প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার বাস্তবায়ন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি জোরদার করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে।