নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ পোস্ট
আমদানিপণ্যের ভুল ঘোষণা ও শুল্ক ফাঁকির আটটি ঘটনা শনাক্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। এসব ঘটনায় সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি ৩ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে এসব অনিয়ম শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। তদন্তে দেখা গেছে, কয়েকটি চালানে কম শুল্ক প্রযোজ্য এমন পণ্যের ঘোষণা দিয়ে বেশি শুল্কের পণ্য আমদানির অভিযোগ রয়েছে। চীন, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড থেকে আসা বিভিন্ন চালানে এ ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, একটি চালানে কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসের আগে সরেজমিন পরীক্ষা করে ঘোষিত পণ্যের পরিবর্তে স্টেজ লাইট, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, টুথপেস্ট, সিরাম, এলইডি লাইট, সানগ্লাস ও কালো চুলের শ্যাম্পুসহ বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যায়।
চালানটিতে ঘোষিত ওজনের অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার ৮১৭ কেজি পণ্যও ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে এনবিআর।
আরেকটি ঘটনায় পুরান ঢাকার চকবাজারের কাফ করপোরেশন চীন থেকে ২২ দশমিক ৫ টন টুথপিক আমদানির ঘোষণা দিয়েছিল। তবে চালান পরীক্ষা করে ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের অসংগতির তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪২ লাখ টাকা বলে এনবিআরের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ধরনের অনিয়মে শুধু সরকারের রাজস্বই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও পণ্যের নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিধিবিধান কার্যকর রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।
এনবিআরের তদন্তে কাফ করপোরেশনের আরেকটি চালান ঘিরে কনটেইনার সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কনটেইনারটি সরেজমিন পরীক্ষা করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই মূল সিল পরিবর্তন করে অন্য সিল লাগানো এবং নথিতে জালিয়াতির মাধ্যমে কনটেইনার সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি শনাক্ত হওয়ার পর কনটেইনারটি জব্দ করা হয় এবং কঠোর নিরাপত্তায় রাখা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, শুল্ক ফাঁকি ও রাজস্ব অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। তদন্তে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কনটেইনার পরীক্ষা এবং ডিজিটাল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানিপণ্যের সঠিক ঘোষণা নিশ্চিত করা, বন্দরে কার্যকর পরীক্ষা চালানো এবং নথি যাচাইয়ের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা গেলে শুল্ক ফাঁকি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (TBS), ১৭ অক্টোবর ২০২৬; জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।