নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ পোস্ট
সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য জানতে দেশটির আদালতের রায়ের কপি চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ সরকার বা সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার পাশাপাশি দুই বাংলাদেশির পরিচয়, অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে মূল্যায়ন করা যাবে। এরপর সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁদের একজন পুরুষ ও অন্যজন নারী। সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তদন্ত ও বিচার শেষে আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর তা কার্যকর করা হয়।
তবে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিস্থিতি, অভিযোগের প্রকৃতি এবং বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। এরপর সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা ঠিক করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া জরুরি।
দ্য ডেইলি স্টারের ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ আগে বাংলাদেশি মিশনের কাছে বন্দীদের একটি তালিকা পাঠিয়েছিল, যেখানে ওই দুই বাংলাদেশির নামও ছিল। তবে তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের তথ্য ওই তালিকায় উল্লেখ ছিল না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ফলে তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তাঁদের মামলার চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে বাংলাদেশ মিশন আগে থেকে অবগত ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ ঘটনায় ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ফেসবুক পোস্ট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সরকারের বক্তব্য,সৌদি আদালতের রায়ের কপি ও প্রয়োজনীয় নথি হাতে পাওয়ার পরই দুই বাংলাদেশির মামলার বিষয়ে আরও পরিষ্কারভাবে জানানো সম্ভব হবে। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটিও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর বিবেচনা করা হতে পারে।
সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন এবং তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রবাসীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পর সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। বিশেষ করে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত নথি এবং বাংলাদেশ মিশনকে আগে থেকে না জানানোর কারণ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ক্যাটাগরি: জাতীয় / প্রবাস / কূটনীতি
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য ডেইলি স্টার ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।