নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ পোস্ট
দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১৮ দিনে ডেঙ্গুতে ১০৩ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। মশাবাহিত এ রোগের বিস্তার ঠেকাতে পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে জ্বরের পাশাপাশি মাথাব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং শরীরে র্যাশ দেখা দিতে পারে। তবে রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে পেটে তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো বিপৎসংকেত দেখা দিতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, পানির পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন এবং বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকা পাত্রে জমে থাকা পানি এ মশার প্রজননস্থল হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস ও নির্মাণস্থলে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা অপসারণ এবং পানির পাত্র ঢেকে রাখা জরুরি।
ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর অবস্থা খারাপ হতে পারে। তাই জ্বর কমে গেলেই বিপদ কেটে গেছে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়।
ডেঙ্গু সন্দেহ হলে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ, বিশেষ করে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ এতে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সপ্তাহে অন্তত একবার বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি পরীক্ষা করে অপসারণ করতে হবে। পানির ট্যাংক ও পাত্র ঢেকে রাখতে হবে। দিনের বেলায়ও এডিস মশা কামড়াতে পারে, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী মশারি, মশা প্রতিরোধক এবং শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক ব্যবহার করা উচিত।
এদিকে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ও সংক্রমণের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করা জরুরি। মৃত্যুর সংখ্যা একা পরিস্থিতির সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না; আক্রান্তের সংখ্যা, হাসপাতালে ভর্তি রোগী এবং গুরুতর রোগীর সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যাটাগরি: স্বাস্থ্য
সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদন ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য।
সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: অক্টোবরের প্রথম ১৮ দিনে ১০৩ জনের মৃত্যুর সংখ্যাটি প্রকাশের আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মূল প্রতিবেদন দিয়ে যাচাই করে নিন।