জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে উঠে এসেছে, কিছু মামলায় ঘটনাগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাজানো হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে এক নারী অভিযোগ করেছিলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় তার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়। তবে তদন্ত শেষে পিবিআই নিশ্চিত হয়, ওই শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়নি; বরং অন্য একটি স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিল।
একইভাবে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় দায়ের হওয়া আরেক মামলায় এক তরুণকে নিহত দাবি করা হলেও তদন্তে দেখা যায়, তিনি জীবিত রয়েছেন। পরে জানা যায়, চলতি বছরের জুন মাসে অন্য একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল।
পিবিআই জানিয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানকে ঘিরে আদালতে হওয়া ১৯৫টি সিআর মামলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১৩টির তদন্ত শেষ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১৪টি মামলায় ভুয়া তথ্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে হত্যাচেষ্টা, হামলা, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শত্রুতা, পারিবারিক বিরোধ কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি মামলায় অভিযোগের পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) মো. আবু ইউসুফ জানান, প্রতিটি অভিযোগ একাধিকবার যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। যেসব মামলায় সত্যতা পাওয়া যায়নি, সেগুলোতে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।
তদন্তে সত্যতা পাওয়া ৮৯টি মামলায় মোট ৬ হাজার ৮৪৪ জনকে আসামি করা হলেও, প্রমাণ মিলেছে মাত্র ১ হাজার ৩৪৩ জনের বিরুদ্ধে।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ভুয়া মামলার কারণে নির্দোষ ব্যক্তিরা সামাজিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তিনি জানান, দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় মিথ্যা মামলা দায়েরকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে সে ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, আইনকে ব্যক্তিগত প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার মতে, যেসব ব্যক্তি উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভুয়া মামলা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।