তিস্তা নদীকে ঘিরে প্রস্তাবিত সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের আর্থিক সহায়তা ও সরাসরি অংশগ্রহণ চেয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (৬ মে) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়।
চীনের রাজধানীর দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্ট হাউসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশ যৌথভাবে ১০ দফা বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের বিষয় গুরুত্ব পায়।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বাণিজ্য, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, পানিসম্পদ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একমত হয়েছে ঢাকা ও বেইজিং। একইসঙ্গে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) ঘিরে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশ তিস্তা নদীভিত্তিক বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে। উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে দীর্ঘদিন পাশে থাকার জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানানো হয়।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের টেকসই সমাধানে সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় চীন সমর্থন অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায়ও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বেইজিং।
বাংলাদেশ বৈঠকে আবারও ‘এক-চীন নীতি’র প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। ঢাকা জানায়, তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখে বাংলাদেশ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী কোনো উদ্যোগকে সমর্থন করে না। অন্যদিকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়ন কৌশলের প্রতি সম্মান জানান চীনের প্রতিনিধিরা।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় দেশ সেখানে দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়। ফিলিস্তিন ইস্যুতে চীনের বিভিন্ন শান্তি উদ্যোগেরও প্রশংসা জানায় বাংলাদেশ।
সফরকালে ড. খলিলুর রহমান চীনের শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা ওয়াং হুনিংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, চীনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম এবং বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
চীন সফরে আতিথেয়তার জন্য দেশটির সরকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য ওয়াং ইকে আমন্ত্রণও জানান তিনি।