নেত্রকোনায় ধর্ষণ মামলার তথ্য প্রকাশের পর নারী চিকিৎসককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় চিকিৎসা তথ্য গণমাধ্যমে তুলে ধরার পর এক নারী চিকিৎসক ধারাবাহিকভাবে প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মদন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
জিডিতে চিকিৎসক উল্লেখ করেন, তিনি উপজেলার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখেন। গত ৩০ এপ্রিল এক নারী তার মেয়েকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, শিশুটি প্রায় ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। পরে শিশুটির সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, স্থানীয় এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন ওই চিকিৎসক। এরপর থেকেই অচেনা নম্বর ও ফেসবুক আইডি থেকে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
চিকিৎসক বলেন, “আমি চিকিৎসক হিসেবে রোগীর অবস্থা সম্পর্কে সত্য তথ্য জানিয়েছি। কিন্তু এরপর থেকেই আমাকে ও আমার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় জিডি করেছি।”
কারা হুমকি দিচ্ছে সে বিষয়ে তিনি জানান, বিভিন্ন নম্বর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তি তাকে টার্গেট করছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানান তিনি।
এদিকে, শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ওই চিকিৎসক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির ওজন মাত্র ২৯ কেজি এবং শারীরিক গঠন অত্যন্ত দুর্বল। গর্ভস্থ শিশুর মাথার আকার তুলনামূলক বড় হওয়ায় স্বাভাবিক প্রসব জটিল হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি শিশুটির রক্তস্বল্পতাও রয়েছে, যা চিকিৎসাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসকের জিডি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। হুমকিদাতাদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে আদালত তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন। বৃহস্পতিবার নেত্রকোনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা ইসলাম এ আদেশ দেন।
মামলার কৌঁসুলি নূরুল কবির জানান, ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও চিকিৎসককে হয়রানির বিষয়েও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক কয়েক বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি সেখানে পড়াশোনা করত। পরে অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। এ ঘটনায় শিশুটির মা গত ২৩ এপ্রিল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে র্যাব অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।