মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন কত তারিখ, এটা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মেজর জিয়া আসলে কখনই স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেবেনই বা কেন? তিনি কি ৭১-এ রাজনীতিবিদ ছিলেন? কোনো সেনা কর্মকর্তা যদি স্বাধীনতার ডাক দিতেন, তবে সেটা হতো সামরিক ক্যু।
আমাকে একটু বলেন, জিয়াউর রহমান কী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন? আর তিনি ডাক দিলেই বা বাংলাদেশের লোক ঝাঁপিয়ে পড়বে কেন? স্বাধীনতার পরিবেশ কি হঠাৎ করে ২৫ মার্চ শুরু হয়েছিল? ধরে নিলাম ২৬ তারিখ ঘোষণা দিয়েছিলেন মেজর জিয়া। ২৫ মার্চ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কী কারণে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল?
বঙ্গবন্ধু নির্বাচনে জিতেছেন। বাঙালির অধিকারের পক্ষে কথা বলার জন্য তিনি ১২ বছরের বেশি জেল খেটেছেন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চে দেশ স্বাধীন করার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। লাখ লাখ লোক বঙ্গবন্ধুর এক কথায় জীবন দিতে প্রস্তুত ছিল এবং যেকোনো সময় আন্দোলন-সমাবেশে ডাক দিলে ঝাঁপিয়ে পড়ত। বাংলাদেশের জনগণ বঙ্গবন্ধুকে জেল থেকে একপ্রকার ছিনিয়ে এনেছে। আর হঠাৎ করে কে এসে স্বাধীনতার ঘোষণা দিল আর দেশটা স্বাধীন হয়ে গেল! এটা অনেক বড় কৌতুক।
আমি অবাক হই- তিল তিল করে স্বাধীনতার পটভূমি তৈরী করা নাকি একটা ঘোষণা পত্রের মধ্যে আটকে আছে।
মেজর জিয়া শুধু বঙ্গবন্ধুর কথা পাঠ করেছেন। এভাবে পাঠ করলে যদি ঘোষক হওয়া যায়, তবে সব মুক্তিযোদ্ধারাই ঘোষক। মুক্তিযোদ্ধারা সবাই দেশ স্বাধীন করার ঘোষণা দিয়েই যুদ্ধে নেমেছেন। এম এ হান্নানও ঘোষক। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, এই দেশের স্বাধীনতার মহানায়ককে যদি কেউ অস্বীকার করে, তবে সহজভাবে বুঝতে হবে তারা স্বাধীনতা নিয়ে খুশি নয়। আওয়ামী লীগ দলকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এবং মানুষকে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে বঙ্গবন্ধু সারা বাংলাদেশ চষে বেড়িয়েছেন। তিনি মাইলের পর মাইল সাইকেল চালিয়ে জনগণের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।
এ দেশের মানুষ ও মাটির প্রতিটি ইঞ্চি বঙ্গবন্ধুর কাছে ঋণী। এই ঋণ যেভাবে শোধ করা হয়েছে, তা মানব ইতিহাসের জন্যই একটি কলঙ্ক। এজন্যই আমি সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করি রাজাকারদের, বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মিথ্যাচারকারীদের এবং বাংলাদেশবিরোধীদের।
পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র জাতি হচ্ছে বাঙালি, যাদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের স্বাধীনতা নিয়ে খুশি নয়। তাও আবার পাকিস্তানের মতো একটি অসভ্য দেশের ভাঙন তাদের হৃদয়ে ব্যথার পাহাড় তৈরি করেছে।
খায়রুল ইসলাম
ব্রাজিল প্রবাসী