সৌদি আরবে নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন দূতাবাসের কিছু কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানার ঘটনায় উদ্বেগের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ নির্দেশের কথা জানায়। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে যেসব মার্কিন দূতাবাসকর্মীর আপাতত অবস্থান জরুরি নয়, তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্যই এ নির্দেশ প্রযোজ্য।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে বেসামরিক বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলাও রয়েছে। এতে বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ ও যাতায়াতব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
টমি পিগট আরও বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশেও সতর্কতা
এএফপিকে একটি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কাতার ও বাহরাইন থেকেও মার্কিন দূতাবাসের কিছু কর্মীর পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে সৌদি আরবের ক্ষেত্রে ঘোষিত নির্দেশের পরিধি এবং অন্য দেশগুলোর ব্যবস্থা এক নয়।
সৌদি আরবে একের পর এক হামলা
চলতি মাসে সৌদি আরবে প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়েছে হুতিরা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হামলার মধ্যে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনাও রয়েছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলো সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
বুধবার সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির একটি তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে আসা একটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। পরে ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুজন নিহত এবং দুজন আহত হন। নিহত ব্যক্তিদের একজন ফিলিপাইনের এবং অন্যজন নেপালের নাগরিক বলে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়। তবে ড্রোনটি কে বা কারা পাঠিয়েছিল, তা জানানো হয়নি।
এদিকে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হওয়ার খবরও জানিয়েছেন দেশটির উড়োজাহাজ চলাচলবিষয়ক কর্মকর্তারা। একই দিন ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ছয়টি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানায়।
ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে তীব্র
ইয়েমেনে ২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। চলতি বছরের জুনে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতির অবসানের পর সংঘাত আবারও তীব্র হয়ে ওঠে।
সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসকর্মীদের একটি অংশকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: প্রথম আলো ও বার্তা সংস্থা এএফপি।