সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবিতে বলা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নিজের আন্তর্জাতিক পরিচিতি ব্যবহার করে চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন দেশ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা এনেছেন। একই সঙ্গে ইতালি, পোল্যান্ড ও ডেনমার্ক থেকে আরও ৩ হাজার কোটি টাকা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়।
দাবিতে আরও বলা হয়, ইউনূস সেন্টারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লামিয়া মোরশেদ, নুরজাহান বেগম ও তাসনিম জারাকে বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় মাঠে নামানো হয়েছে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এসব পোস্টের একটি কয়েক হাজার প্রতিক্রিয়া ও ১ হাজার ৮০০–এর বেশি শেয়ার হয়েছে। অনেকেই তথ্যটি সত্য ধরে নিয়ে মন্তব্যও করেছেন।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দাবিগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। ইউনূস সেন্টারের আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। দেশের কোনো স্বীকৃত গণমাধ্যমেও এমন সহায়তা বা অর্থ আনার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়নি।
ফ্যাক্ট-চেকে আরও জানা যায়, রম্যলেখক আখতারুজ্জামান আজাদের একটি ব্যঙ্গধর্মী (স্যাটায়ার) লেখাকে বাস্তব ঘটনা হিসেবে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কপি–পেস্ট করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে সেটিই বিভিন্ন ব্যক্তি যাচাই না করেই প্রচার করেন।
সব মিলিয়ে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য বিদেশ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা এনেছেন কিংবা আরও ৩ হাজার কোটি টাকা আনার উদ্যোগ নিয়েছেন—এমন দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তথ্যটি ভিত্তিহীন।