মাদকবিরোধী ফুটবল ম্যাচে ভ্যান ও রিকশাচালকদের ফুল দিয়ে বরণ…
শাকিল খান, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: ‘মাদককে না বলি, খেলাকে হ্যাঁ বলি’ এই স্লোগান সামনে রেখে তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা ও মাদক থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যে রংপুরের তারাগঞ্জের কাশিয়াবাড়ি স্কুল মাঠে আয়োজন করা হয়েছে ফুটবল ম্যাচ। খেলার পাশাপাশি অতিথি বরণেও ছিল ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। সেখানে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় ভ্যানচালক, রিকশাচালকসহ শ্রমজীবী মানুষদের।
সাধারণত বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, বিত্তবান ব্যক্তি কিংবা সমাজের পরিচিতজনদের অতিথি করা হয়। তবে প্রচলিত সেই ধারা থেকে বেরিয়ে শ্রমজীবী সাধারণ মানুষকে অতিথি করার উদ্যোগ নেন আয়োজনের উদ্যোক্তা শাহাদাত হোসেন সোহাগ।
অনুষ্ঠানে আসা শ্রমজীবী অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। তাঁদের জন্য আপেল, কমলা, আনারসসহ বিভিন্ন ফল ও নাশতারও ব্যবস্থা করা হয়। এমন উদ্যোগে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রশংসার সৃষ্টি হয়।
আয়োজক শাহাদাত হোসেন সোহাগ বলেন, অতিথি হওয়ার অধিকার সবারই আছে। যারা সারাদিন পরিশ্রম করে পরিবার চালান, তাঁদের সম্মান করাটাও আমাদের দায়িত্ব। আমি চেয়েছি, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন নিজেদের মূল্যবান ও সম্মানিত মনে করেন।
প্রশংসা এলাকাবাসীর
এলাকাবাসী হাফিজার রহমান বলেন, শাহাদাত ভাইয়ের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আমার দেখা এই প্রথম, যেখানে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষকে অতিথি হিসেবে বেছে নিয়ে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়েছে। সমাজের সবার মধ্যে এমন মানবিক চিন্তাভাবনা থাকা উচিত।
স্থানীয় বাসিন্দা আনিসুল বলেন, শুধু বিত্তবান বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই অতিথি হবেন এমন ধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা দরকার। যারা প্রতিদিন শ্রম দিয়ে পরিবার ও সমাজে অবদান রাখছেন, তাঁদের সম্মান করাও আমাদের দায়িত্ব। শাহাদাত ভাইয়ের এই উদ্যোগ অন্যদের জন্যও উদাহরণ হতে পারে।
খেলাধুলার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ড
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাহাদাত হোসেন সোহাগের কর্মকাণ্ড শুধু খেলাধুলার আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও সংস্কারে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সড়কে কঙ্কর দিয়ে রাস্তা মেরামতে সহযোগিতা, রাস্তার পাশে ও খেলার মাঠে গাছ লাগানোসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁকে দেখা যায়।
তাঁদের ভাষ্য, তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি, এলাকার সমস্যা তুলে ধরা, রাস্তাঘাটের উন্নয়নে সহযোগিতা এবং পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর মতো উদ্যোগগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয়দের মতে, ব্যক্তিগত স্বার্থের বাইরে গিয়ে শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের সম্মান দেওয়ার এমন উদ্যোগ সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।