ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন এবং নিয়মিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন বলে দাবি করেছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আবদুল মজিদ হাকিম ইলাহি। তাঁর দাবি, নিরাপত্তার কারণে মোজতবা জনসমক্ষে আসছেন না। এমনকি বাবার দাফন অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন ওই কূটনীতিক। তবে মোজতবার শারীরিক অবস্থা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর সরাসরি ভূমিকা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য এখনো সীমিত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবদুল মজিদ হাকিম ইলাহি বলেন, মোজতবা খামেনি ‘খুব, খুব, খুব সুস্থ’ আছেন এবং নিজের দায়িত্ব ভালোভাবেই পালন করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোজতবার সাত ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তাঁর বক্তব্যও মূলত লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
মোজতবা খামেনি তাঁর বাবার দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না—এমন ধারণা নাকচ করেছেন আবদুল মজিদ। তিনি দাবি করেন, নিরাপত্তার কারণে মোজতবা সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেননি। তবে তিনি নিজে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বলে কূটনীতিক জানিয়েছেন।
এ ছাড়া মোজতবা মাঝেমধ্যে রাতে রাস্তায় বের হন এবং জনবিক্ষোভেও অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। এসব বক্তব্যের স্বাধীন সমর্থনকারী তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকায় মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা এবং ইরানের রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকটি সূত্রের দাবি, হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তবে তাঁর আঘাতের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোজতবা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবেদন পাচ্ছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তবে এসব দাবির সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এর আগে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে ভিন্ন সময়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। ফলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং ইরানের অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার প্রকাশ্য অনুপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন তৈরি করেছে। মোজতবা খামেনি বাস্তবে কতটা সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, তা নিশ্চিতভাবে বোঝার জন্য আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।
সূত্র: প্রথম আলো (এনডিটিভির সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদন)