ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ ড্র করেছে বিসিবি একাদশ। ব্যাট হাতে কালাম সিদ্দিকী আলিনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং বল হাতে মো. হোসাইনের চার উইকেট ছিল ম্যাচের উল্লেখযোগ্য দিক। বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজের আগে এই ম্যাচে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করে নিয়েছে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজও।
ঢাকার বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৯০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৭১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বিসিবি একাদশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৩৫ রান করেন কালাম সিদ্দিকী আলিন। ১৮৪ বলের ইনিংসে তিনি মারেন ২০টি চার ও একটি ছক্কা।
তরুণ ওপেনার জিশান আলমও দারুণ ব্যাটিং করেন। ১০০ বলে ৮৬ রান করে সেঞ্চুরি থেকে অল্পের জন্য বঞ্চিত হন তিনি। এ ছাড়া চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান করেন ৫৯ রান। অধিনায়ক জাকের আলী অনিকের ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান। শেষ দিকে মো. শামীম হোসেন মাত্র ৩০ বলে অপরাজিত ৩৫ রান করে দলের সংগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বিসিবি একাদশের ৩৭১ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভালো সূচনা পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং ৩৫ বলে ৪০ রান করেন। জন ক্যাম্পবেল ৭৮ বলে ৬৫ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন। ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল করেন ৩১ রান।
মাঝের দিকে কয়েকটি উইকেট হারালেও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা। কেভিন উইকহ্যাম ১০৭ বলে অপরাজিত ৬৭ রান করেন। অন্য প্রান্তে অধিনায়ক রোস্টন চেজ ৬৫ বলে অপরাজিত ৪৬ রান করে তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন। তাঁদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আর কোনো উইকেট হারায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
৮০ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ৩৩৬ রান নিয়ে দিনের খেলা শেষ করে ক্যারিবীয়রা। ফলে বিসিবি একাদশের চেয়ে ৩৫ রান পিছিয়ে থেকে প্রস্তুতি ম্যাচটি ড্র হয়।
বিসিবি একাদশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন মো. হোসাইন। তিনি ১২.২ ওভার বল করে ৫৫ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন। তাঁর বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন।
তবে শেষ দিকে উইকহ্যাম ও চেজের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে ম্যাচে আর চাপ তৈরি করতে পারেনি বিসিবি একাদশ। প্রস্তুতি ম্যাচের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দলের ক্রিকেটারদের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং আসন্ন টেস্ট সিরিজের আগে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করা।
প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে এবার মূল লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সূচি অনুযায়ী, দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটি শুরু হবে ২৮ অক্টোবর ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ৫ নভেম্বর সিলেটে।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ এই সিরিজে দুই দলই ভালো ফলের প্রত্যাশা করছে। প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের ব্যাটারদের পারফরম্যান্স এবং মো. হোসাইনের বোলিং বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে টেস্ট সিরিজে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে প্রস্তুতির সাফল্য কতটা কাজে এসেছে।
সূত্র: নয়া দিগন্ত, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), ক্রিকবাজ।