নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ পোস্ট
দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি আরও কমেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন নেমে এসেছে ৩১৭ কোটি টাকায়, যা নয় মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই দিনে প্রধান সূচকও কমেছে। বাজারে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক অবস্থানের চিত্র দেখা গেছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, এদিন লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩১৭ কোটি টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩৬ শতাংশ কম। এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫-এর পর এত কম লেনদেন দেখা যায়নি।
দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৮ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৪৩৩ দশমিক ১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, বাছাই করা বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস-৩০ কমেছে ৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ২৯ শতাংশ। সূচকটি দিন শেষে দাঁড়ায় ২ হাজার ৯০ দশমিক ৫১ পয়েন্টে।
বাজারের সার্বিক চিত্রেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২২৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। বিপরীতে দাম বেড়েছে ৯৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬১টির।
খাতভিত্তিক লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মিউচুয়াল ফান্ড ও পাট খাতে তুলনামূলক বেশি দরপতন হয়েছে। তবে বীমা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে ইতিবাচক প্রবণতা ছিল।
দিনের লেনদেনে ইভিন্স টেক্সটাইল, সাইহাম টেক্সটাইল, মতিন স্পিনিং ও সোনালী আঁশ উল্লেখযোগ্যভাবে সক্রিয় ছিল। অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে এবং এপেক্স ফুটওয়্যার দরপতনের তালিকায় সবচেয়ে নিচে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেয়ারবাজারে লেনদেন কমে যাওয়ার পেছনে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কোম্পানিগুলোর আয়, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহ হারাতে পারেন।
এ ছাড়া শেয়ারবাজারে টানা দরপতন হলে অনেক বিনিয়োগকারী লোকসানের আশঙ্কায় নতুন বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকেন। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতার অংশগ্রহণ কমে গিয়ে লেনদেনের পরিমাণও সংকুচিত হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট দিনে লেনদেন কমার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে বাজারসংশ্লিষ্টদের বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।
লেনদেনের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং অধিকাংশ শেয়ারের দরপতন বাজারে দুর্বল অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়। তবে শুধু সূচক বা এক দিনের লেনদেনের ভিত্তিতে বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন, মুনাফা, ঋণের অবস্থা, লভ্যাংশ এবং মূল্যসংবেদনশীল তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। গুজব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করলে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (TBS), ১৭ অক্টোবর ২০২৬; ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজারসংক্রান্ত তথ্য।