নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ পোস্ট
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সাহেব আলীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মো. রনিকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। অভিযানের সময় তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল ও একটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এসআরবি-১১ ও এসআরবি-৮-এর যৌথ অভিযানে রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান এসআরবি-১১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।
বৃহস্পতিবার ভোরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার শাহজাহানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে উল্লেখ করা পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর গ্রেপ্তার এড়াতে রনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাঁকে সাহেব আলীকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছুড়তে দেখা গেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াবদা কলোনির ইত্তেহাদ টাওয়ারের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে জানানো হয়েছে।
এ সময় সশস্ত্র হামলাকারীরা সাহেব আলীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি সড়কের পাশের একটি খালে পড়ে যান। এরপরও তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে এসআরবির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত সাহেব আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে।
এই হত্যা মামলায় এর আগে গত ১৩ অক্টোবর সাব্বির নামের আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এসআরবি কর্মকর্তা বলেন, শিল্পাঞ্চল ও জনবহুল এলাকা হওয়ায় এখানে নানা ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটে। তবে তাঁর দাবি, আগের তুলনায় অপরাধের প্রবণতা অনেকটা কমেছে।
সাহেব আলী হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে ঘটনার সঙ্গে অন্য কারা জড়িত, হত্যার পেছনের বিরোধের প্রকৃতি কী এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।