ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০২৬: ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে দেশের প্রতিটি নাগরিক ও পরিবারকে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন নিজেদের ঘরবাড়ি, আশপাশের এলাকা এবং প্রতিদিন চলাচলের পথ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য সপ্তাহে দুই দিন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘরের বিভিন্ন কোণে, বাড়ির আশপাশে, রাস্তাঘাটে এবং জনসাধারণের চলাচলের স্থানে জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই এসব স্থানে পানি জমে থাকতে না দেওয়া এবং জমে থাকা পানি ও আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
তাঁর আহ্বান অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবার সপ্তাহে অন্তত দুই দিন নির্দিষ্ট সময় বের করে নিজেদের বাসাবাড়ি, আশপাশ এবং চলাচলের পথের সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থলগুলো পরিষ্কার করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রচেষ্টা আরও কার্যকর হবে। এ কাজে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অর্জনে মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ভূমিকা রেখেছে। একইভাবে জাতীয় সমস্যাগুলো মোকাবিলায়ও নাগরিকদের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন বয়সের মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হচ্ছেন এবং অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন। সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আরও অনেক পরিবারকে প্রিয়জন হারানোর বেদনা থেকে রক্ষা করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং সামাজিক উদ্যোগ হিসেবেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), স্কাউটস, গার্ল গাইডস ও রেড ক্রিসেন্টের মতো সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে অংশ নিচ্ছেন। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চায়। ডেঙ্গুর মতো জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলায় সরকার ও নাগরিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের আলোকে বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন—
এসব পদক্ষেপ এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ও জনসচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এক দিনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পরিবর্তে নিয়মিতভাবে বাড়ি ও আশপাশ পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। বিশেষ করে বৃষ্টির পর বিভিন্ন পাত্র, ছাদ কিংবা খোলা স্থানে পানি জমে থাকতে পারে। এসব স্থান নিয়মিত পরীক্ষা করলে মশার বংশবিস্তারের সুযোগ কমানো সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান বাস্তবায়নে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একযোগে কাজ করলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), ১৪ অক্টোবর ২০২৬; প্রথম আলো, ১৫ অক্টোবর ২০২৬; প্রধানমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও বার্তা।
সংবাদ পোস্ট | সংবাদে সত্য, তথ্যে নির্ভরতা